দিল্লিতে মেসবাড়ি ধসে ৬ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মোদিকে নিশানা সিজেপির
ভারতের দিল্লিতে মেসবাড়ি ধসে ছয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন। গতকাল রোববার ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশালদের’ বিষোদ্গার করলেন, অথচ অবকাঠামো না থাকা ও অবহেলার দরুন দেশের কোণে কোণে ছাত্রদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, আর কত কাল দেশের ছাত্রদের সরকারি অবহেলা ও অবকাঠামো না থাকার খেসারত দিতে হবে? অভিজিৎ লিখেছেন, আদিবাসী এলাকাগুলোয় ন্যূনতম পরিষেবার অভাবে শিক্ষার্থীদের মরতে হচ্ছে। এবার খোদ দিল্লিতেও মরতে হলো মেসবাড়ি ধসের কারণে। রাজধানীতেও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নন।
অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা বেশি কিছু চান না। তাঁরা চান নিরাপদ ক্লাসরুম, নিরাপদ হোস্টেল, ন্যূনতম সম্মান। এটা কি খুব বেশি চাওয়া? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কি আর একবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ব্যাখ্যা করবেন, কেন এমন ঘটল?’
গতকাল দিল্লির চাণক্যপুরী এলাকায় সত্য নিকেতনে একটি ছয়তলা মেসবাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। বাড়িটি শিক্ষার্থীদের ‘পেয়িং গেস্ট’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ধসে যাওয়া বাড়ি থেকে ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা গেছে। ১১ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। আজ সোমবারও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। তার তলায় আরও কেউ আছে কি না, এখনো নিশ্চিত নয়। সিজেপি নেতারা গতকালই ঘটনাস্থলে যান। বিকেলে অভিজিৎ ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে ওই মন্তব্য করেন। তিনি দিল্লির মেসবাড়ি ও হোস্টেলগুলোর নিরাপত্তা–সংক্রান্ত অডিট করানোরও দাবি জানিয়েছেন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে অনেক কথা বলেন। তা নিয়ে নানা রকম চর্চা শুরু হয়েছে। মোদি সেখানে বলেন, ‘লাল কেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় আমি ছোট্ট করে দিমাগি নকশাল বলেছিলাম। ওটা ছিল হোমিওপ্যাথি ওষুধের মতো। হোমিওপ্যাথি ওষুধ পড়লে শুরুতেই রোগ বেড়ে যায়। তারপর কমে। তেমনই দিমাগি নকশাল বলামাত্র তাদের প্রশ্রয়দাতারা হই হই শুরু করেছে। জনগণ তাদের আসল রূপ দেখতে পাচ্ছে।’
সিজেপি নেতারা ওই মন্তব্যের দরুন প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে ছাড়েননি। অভিজিৎ দিপকে যেমন বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা ক্ষেত্রের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা না বলে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ভাষণ দিলেন। তরুণ প্রজন্মকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে তকমা লাগালেন। সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, তরুণ প্রজন্ম যখন শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষালয়ের অবকাঠামোর বেহাল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করছে, প্রধানমন্ত্রী তখন তাদের ‘বোকা বোকা তকমা’ (স্টুপিড লেবেলস) দিচ্ছেন। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এ ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করলেন।
গতকালের দুর্ঘটনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছিলেন গোয়ায়। সেখানে তিনি তখন এক দলীয় অফিস ভবন উদ্ঘাটন করছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে অনুষ্ঠান কাটছাঁট করে দেন। অভিজিৎ সেই প্রসঙ্গে বলেন, রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির বড় বড় পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে। অথচ পড়ুয়ারা থাকতে বাধ্য হচ্ছেন অসুরক্ষিত ভবনে।
এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, পিএম কেয়ার্স তহবিলে যে টাকা খরচ না হয়ে পড়ে রয়েছে, তা দিয়ে রাজ্যে রাজ্যে জেলায় জেলায় উন্নতমানের সরকারি স্কুলবাড়ি তৈরি করা হোক। সিজেপি নেতারা বিভিন্ন রাজ্যের সরকারি স্কুল বিল্ডিংয়ের হালহকিকত খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। মারধরও করা হচ্ছে; কিন্তু তাঁরা দমেননি। সিজেপির দাবি, পিএম কেয়ার্স তহবিলের কোটি কোটি টাকা ফেলে না রেখে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নতির কাজে ব্যবহার করা হোক। তাতে দেশেরই লাভ। ২০২৪-২৫ সালের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, পিএম কেয়ার্স ফান্ডে জমা রয়েছে মোট ৮ হাজার ৪৫২ কোটি রুপি। অভিজিতের দাবি, এই টাকায় সব সরকারি স্কুল নতুনভাবে তৈরি করে দেওয়া যায়।