পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে হারের পর প্রথম বড় সমাবেশ করলেন মমতা

কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়ছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ জুলাই ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গছবি: ভাস্কর মুখার্জি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি অংশ আলাদাভাবে আজ মঙ্গলবার ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালন করেছে। এর মধ্যে দুটি অংশ কলকাতায় এবং আরেকাংশ নয়াদিল্লিতে দিবসটি পালন করে।

১৯৯৩ সালের এই দিনে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবিতে তৎকালীন যুব কংগ্রেস রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং অভিমুখে কর্মসূচি দিয়েছিল। সেই কর্মসূচি ঠেকাতে রাজ্য পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালালে যুব কংগ্রেসের ১৩ কর্মী নিহত হন। তখন শাসনক্ষমতায় ছিলেন বাম ফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

সেদিনের এ ঘটনার স্মরণে শহীদ দিবস পালন করে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও আজ মঙ্গলবার কলকাতা শহরে সবচেয়ে বড় সমাবেশের আয়োজন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে শহীদদের স্মরণসভায় নেতৃত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবারের অনুষ্ঠান অবশ্য কিছুটা ব্যতিক্রম। তৃণমূল কংগ্রেস এবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দল তিন টুকরা হয়ে যায়। একাংশ আছে মমতার সঙ্গে। সবচেয়ে বড় অংশ চলে যায় তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। আর তৃতীয় অংশটি নিজেদের নাম বদলে ঢুকে যায় অখ্যাত রাজনৈতিক দল এনসিপিআইয়ে। এই অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

তৃণমূলের তিন অংশ আজ মঙ্গলবার আলাদাভাবে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। কলকাতা হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, মমতার শহীদ দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয় কলকাতার বিড়লা তারামন্ডলের কাছে, ঋতব্রতের তৃণমূল কংগ্রেস দিবসটি পালন করে মেয়ো রোডের কাছে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে আলাদা মঞ্চ বানিয়ে। আর কাকলির নেতৃত্বাধীন অংশ এনসিপিআইয়ের ব্যানারে শহীদ দিবস পালন করে। তবে এই অংশ কলকাতায় নয়, দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শহীদ দিবস পালন করেছে।

চোরেরা সব বিজেপিতে গেছে: মমতা

বিড়লা তারামন্ডলের কাছে দলের সমাবেশে মমতা বলেন, ‘আমরাই আসল তৃণমূল। চোরেরা সব বিজেপিতে গেছে। আপদগুলো বিদায় হয়েছে। ওরা আর ফিরতে চাইলে ওদের দলে নেওয়া হবে না। ওরা তো শিবির বদলু ইঁদুর। বুলডোজার সরকার, ভোট লুটের সরকারের সঙ্গী হয়েছে। এসআইআরের নামে ভোট লুট করা সরকার।

মমতা অন্য দুই অংশের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে চলে যান বিজেপিতে। মানুষ আপনাদের চিনে নিয়েছে। কী করেছেন আপনারা? সময় এলে সব ফাঁস করে দেব। এই বিজেপি আমাদের ১৪ হাজার কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ৪০০ মামলা করেছে। আমরা ভয় পাই না। মানুষ আমাদের পাশে আছে। আমরা তাদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে শহীদদের স্মরণসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ জুলাই ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গ
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

মমতা বলেন, ‘বাংলাটা বাংলায় নেই। লুম্পেনদের হাতে চলে গেছে। আবার ব্যাট–বলে খেলা হবে রাজপথে। আমার দলের প্রতীক আর অর্থ কেড়ে নিলেও আমরা থেমে থাকব না। মানুষ আমাদের শক্তি। নেতারা চলে গেলেও কর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। তারাই আমার শক্তি।’

মমতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ওরা মেয়ো রোডে ঈদের নামাজ পড়তে দেয়নি। অনুমতি দেয়নি ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়েও।

নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। ওদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করুন। জেলে যেতে হলেও যাবেন। জেলের ভাত খাওয়া বিজেপির ভাতের চেয়ে ভালো। তাই তো বলছি আমরাই আসল তৃণমূল। অনেক নেতা চলে গেছেন, কর্মীরা যাননি। সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিলে আসল তৃণমূল হওয়া যায় না। ওদের না হারানো পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে।’

মমতা আরও বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো অত্যাচার আমরা মেনে নেব না। আপনারা এগিয়ে আসুন। ওদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। আমি আছি এবং থাকব অতীতের ন্যায়।’

অন্যদিকে কলকাতার মেয়ো রোডের সভামঞ্চে তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এত দিন দলের কর্মীরা মর্যাদা পাননি। এবার সময় এসেছে, দলকে স্বৈরতন্ত্রের হাত থেকে মুক্ত করার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমকি দলকে ভাঙনের কিনারায় নিয়ে এসেছে। সাহস থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিন।’

জাতীয় কংগ্রেস শহীদ দিবস উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করে কলকাতার শহীদ মিনারের পাদদেশে।