কলকাতার আর জি কর–কাণ্ডে ভিসেরা নমুনা বিকৃত করার অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক অভয়ার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত চিকিৎসকের শরীর থেকে সংগ্রহ করা ভিসেরা নমুনা বিকৃত করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা-মায়ের আইনজীবী। এই অভিযোগ সামনে আসার পর মামলাটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট গভীর রাতে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক অভয়া (ছদ্মনাম) হাসপাতালেই ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ হাসপাতালের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচার শেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শিয়ালদহের দায়রা আদালত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে শুরু থেকেই এই রায় মেনে নেননি অভয়ার মা–বাবা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে সঞ্জয় রায়কে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। সঞ্জয় রায়ও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
মামলার পুনঃতদন্ত শুরুর পর নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অভয়ার বাবা-মায়ের কাছে কলকাতার ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির তিন কর্মকর্তার একটি চিঠি পৌঁছায় বলে তাঁদের পক্ষের দাবি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ঘটনার পর নিহত চিকিৎসকের শরীর থেকে সংগ্রহ করা ভিসেরা নমুনা বিকৃত করা হয়েছে।
এই চিঠির ভিত্তিতে গতকাল শিয়ালদহের দায়রা আদালতে নতুন আবেদন করেন অভয়ার মা–বাবা। তাঁদের আইনজীবী অমর্ত্য দে আদালতে দাবি করেন, ভিসেরা নমুনা বিকৃতির ঘটনায় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির তিন কর্মকর্তা জড়িত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন রাজ্য সরকারের নির্দেশেই এ কাজ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়।
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী পক্ষের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে নিহত চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, শুধু দণ্ডিত ব্যক্তিকে নয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভিসেরা নমুনা বিকৃতির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।