১৩ বছর পর জামিন পেলেন সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন
সারদা চিটফান্ড মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৩ বছর কারাভোগের পর জামিন পেয়েছেন সারদা গ্রুপ অব কোম্পানিজের কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জামিনের সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন তিনি।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সর্বশেষ দুটি মামলায় সুদীপ্ত সেনকে জামিন দেন। এ সময় বিচারপতিরা এত দিন সুদীপ্ত সেনকে কারাগারে রাখার জন্য সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) এবং রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেন। এ ছাড়া আদালত প্রশ্ন তোলেন, সারদার বিরুদ্ধে করা মামলায় চার্জশিট দেওয়া হলেও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি কেন?
২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন সারদা গ্রুপ অব কোম্পানিজের কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। ওই সময় অভিযোগ ওঠে, সারদা মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে কোটি কোটি রুপি বিনিয়োগের জন্য জমা নিলেও পরবর্তী সময়ে সেসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ ছিল, সারদার ওই ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে ১৭ লাখ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে আড়াই হাজার কোটি থেকে চার হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগের জন্য নেওয়া হয়। পরে সারদার সেই টাকা তৎকালীন সরকারি দলের কিছু নেতা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিধায়কেরা সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে তাঁর কাছে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
নানা অভিযোগে তখন সারদার বিরুদ্ধে ৩৮৯টি মামলা হয়। এই দীর্ঘ সময়ে সারদার বিরুদ্ধে হওয়া ৩৮৯ মামলার মধ্যে ৩৮৭টি মামলায় জামিন পান সুদীপ্ত সেন। তবে পুলিশের দেওয়া অন্য দুটি মামলায় জামিন পাননি। এবার সেই দুটি মামলায় জামিনের জন্য আবেদন করেন সুদীপ্ত সেন। পরে কলকাতা হাইকোর্ট গতকাল সুদীপ্ত সেনকে জামিনের আদেশ দেন। জামিনের শর্ত হিসেবে জামিনের জামানতের টাকা জমা দেওয়া ও আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখাসহ সুদীপ্ত সেনকে বিভিন্ন শর্ত দিয়েছেন আদালত।
ইতিমধ্যে সুদীপ্তের জামিনের খবরে নিজেদের বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় রয়েছেন গ্রাহকেরা। তবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সুদীপ্তের জামিন ইস্যু রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ছড়াতে পারে।