গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে এই নির্দেশ জারি করা হয়। গুজরাটের আনন্দ ও মেহসানা জেলায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে বৈধভাবে আসা যেসব অমুসলিম শরণার্থী বসবাস করছেন এবং ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে জেলা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতে ন্যূনতম পাঁচ বছর থাকার শর্ত এ ক্ষেত্রে মানতে হবে না। হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিষ্টান ও পারসি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের মধ্যে যাঁরা ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী (রেজিস্ট্রেশন) নাগরিকত্ব চান অথবা ৬ নম্বর ধারা (ন্যাচারালাইজেশন) অনুযায়ী নাগরিকত্বের দাবিদার, তাঁদের জন্য জেলা কতর্কৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেসব করা হবে ওই আইন বলবতের জন্য ২০০৯ সালে যে নিয়মবিধি চালু করা হয়েছিল, সেই মোতাবেক।

গুজরাট রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশ জারি হলো। এ বছরের শেষ দিকে গুজরাট বিধানসভার ভোট। রাজ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘোষণার জন্য এখনো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে। জনপ্রিয় ধারণা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তিন দিনের রাজ্য সফর শেষ হলেই নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ জানিয়ে দেবে। এর আগে প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে বৈধভাবে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে ২০১৯ সালে ভারতের পার্লামেন্টে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হয়। কিন্তু ওই আইন সংবিধান পরিপন্থী—এই অভিযোগে মোট ২৩০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশ জনস্বার্থ–সম্পর্কিত। সুপ্রিম কোর্টে মামলাগুলো বিচারাধীন। সর্বোচ্চ আদালত জানান, আগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে সিএএ–সংক্রান্ত সব মামলার টানা শুনানি শুরু হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তাদের হলফনামা সুপ্রিম কোর্টে পেশ করেছে।

দেশ–বিদেশে প্রবল প্রতিরোধের ফলে কেন্দ্রীয় সরকার এখনো ওই আইনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নিয়মবিধি তৈরি করতে পারেনি। বারবার সময় বাড়ানো হচ্ছে। তাই গুজরাটের দুই জেলায় পুরোনো আইন অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশের অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

এমন সিদ্ধান্ত অবশ্য নতুন নয়। ২০১৬, ২০১৮ ও ২০২১ সালেও গুজরাট, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা প্রশাসককে প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে বৈধভাবে আসা অমুসলমান নাগরিকদের ভারতীয় নাগরিকত্বের সনদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।  

গুজরাটের আনন্দ ও মেহসানা জেলায় বসবাসকারী ওই শরণার্থীদের এবার নতুন করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। নাগরিকত্বের সে আবেদন জেলা পর্যায়ে যাচাই করে দেখা হবে। জেলা কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে নাগরিকত্ব প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, গুজরাটে আরও একবার সরকার গড়তে বিজেপি হিন্দুত্বের রাজনীতিকে ব্যবহার করল।