পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৮ আগস্ট ২০২৬ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

মাত্র চার মাসের শাসনেই বর্তমান রাজ্য সরকারের ওপর মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে দাবি করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, খুব শিগগির এ রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার কলকাতায় দলের ছাত্রসংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এদিন বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে ক্যাথিড্রাল রোডে এই সমাবেশের আয়োজন করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।

কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৮ আগস্ট ২০২৬
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

সমাবেশে মমতা বলেন, বিজেপির অন্যায়ের জবাব এবার মানুষই দেবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশ ঠিকমতো সভাও করতে দিচ্ছে না। তবে মানুষ এখন তৃণমূলের দিকেই ফিরছে।

বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে মন্তব্য করে সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল এ বাংলার চুরির ইতিহাস বদলে দেবে। বিজেপির বড় পতন ঘটবে এবং তৃণমূল খুব শিগগির রাজপাটে ফিরে আসবে।

এদিকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছে বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের অংশ ও জাতীয় কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে তাদের সমাবেশ করে। অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেস কলকাতার মহাজাতি সদনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করে।

দেশবিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এইট–বি বাসস্ট্যান্ডে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের আয়োজন করে ক্ষমতাসীন বিজেপি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩৪ বছরের বাম শাসন ও ১৫ বছরের জামাতি শাসনের পর এই বাংলায় দেশপ্রেমীরা আজ দেশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানাচ্ছে। ওরা গেরুয়া নিয়ে কটাক্ষ করে, অথচ স্বামী বিবেকানন্দও তো গেরুয়া পরতেন।

যাদবপুরে বিজেপির আয়োজনে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২৮ আগস্ট ২০২৬
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠা ‘আজাদি’ স্লোগানের সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘ক্ষুদিরাম বসু থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেশকে স্বাধীন করে গেছেন। তাহলে ওরা কাশ্মীর বা অন্য কিসের আজাদি চায়? আজাদি কি হেরোইন, গাঁজা খাওয়ার? এদের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। হয় ওরা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। প্রয়োজনে আমরা পিওকে (পাক-অধিকৃত কাশ্মীর) দখল করে নেব।’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলো কেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দখলে, তারও জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।