ভোটাভুটি হলেও কংগ্রেসের ভোটাররা দলের প্রধান হিসেবে কাকে ভোট দেবেন, সেই বার্তা মোটামুটিভাবে পৌঁছে গেছে। তিনি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। গান্ধী পরিবারের প্রতি তাঁর আনুগত্য নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। তবে সংশয় ছিল দলের সভাপতি হওয়ার পর রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রিত্ব তিনি ছাড়বেন কি না। দুদিন আগেও গেহলট অনড় ছিলেন। সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী দুই পদেই থাকবেন। কিন্তু স্বয়ং রাহুল সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার মধ্যেই কেরালায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, উদয়পুরের চিন্তন শিবিরে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আশা করি সবাই তা মানবেন। রাহুলের ওই মনোভাব জানার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গেহলট সুর বদলেছেন। বলেছেন, দলই ঠিক করবে মুখ্যমন্ত্রী পদে কাকে বাছা হবে।

গেহলটের বয়স ৭১। রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শচীন পাইলট (৪৫)। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শচীনকে মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন। কিন্তু এ ছাড়া উপায়ও সম্ভবত নেই। বছর দেড়েক আগে ১৮ জন বিধায়ক নিয়ে শচীন বিদ্রোহ করেছিলেন। সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা তার সামাল দিয়েছিলেন। সেই থেকে শচীন ধৈর্য ধরে রয়েছেন। গেহলট–শচীন সম্পর্কের এ রসায়ন কংগ্রেসের কাছে শাঁখের করাতের মতো।

দলের প্রধান পদের লড়াইটা দ্বিমুখী হলে দুই যুযুধান চরিত্র হবেন গেহলট ও শশী থারুর। তবে তা ত্রিমুখী, চতুর্মুখী কিংবা পঞ্চমুখীও হতে পারে। কেননা, পাঞ্জাবের নেতা মণীশ তিওয়ারি ও মধ্যপ্রদেশের কমলনাথ, দিগ্বিজয় সিংয়ের নাম দলের ভেতর আলোচনায় আছে। লড়াই বহুমুখী হলে বিজেপিকে বোঝানো যাবে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র কতটা মজবুত।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, মণীশ তিওয়ারি রোববার দিল্লি এসে দলের জি–২৩ গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন। দুই বছর আগে সর্বক্ষেত্রে সাংগঠনিক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী নেতা নির্বাচনের দাবিতে দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে যে ২৩ জন শীর্ষ নেতা চিঠি লিখেছিলেন, তাঁরা ‘জি-২৩’ বলে পরিচিত। শশী থারুর ও মণীশ তিওয়ারি দুজনেই জি–২৩ গোষ্ঠীভুক্ত। লড়াই শেষ পর্যন্ত গেহলটের সঙ্গে শশী থারুরের হলে কংগ্রেসের ভোট উত্তর–দক্ষিণে বিভাজিত হবে। গেহলট মনোনয়নপত্র জমা দেবেন সোমবার।

গান্ধী পরিবারের সমর্থন গেহলটের প্রতি জানাজানি হওয়া মাত্র দলের কেউ কেউ শশী থারুরের বিরোধিতায় নেমেছেন। যেমন দলের অন্যতম মুখপাত্র গৌরব বল্লভ বলেছেন, থারুরের অবদান একটাই। অসুস্থ সোনিয়ার সুস্থতা কামনা করে চিঠি লেখা। তুলনায় গেহলট তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, তিনবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন তাঁর। এ মন্তব্যে রাহুল অসন্তুষ্ট। এর পরেই দলের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ জানিয়ে দেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে দলের কেউ যেন কোনো মন্তব্য না করেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন