শতবর্ষ পর পাওয়া গেল বিনোদবিহারীর স্ক্রল চিত্রকর্ম
প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রশিল্পী বিনোদবিহারী মুখার্জির আঁকা একটি চিত্রকর্মের খোঁজ মিলেছে প্রায় ১০০ বছর পর। জাপানি ঘরানার ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্যের সেই হ্যান্ডস্ক্রল শিল্পকর্ম খুঁজে পাওয়ার পর ‘সিনস ফ্রম শান্তিনিকেতন অ্যান্ড বিনোদবিহারীজ হ্যান্ডস্ক্রল’ শীর্ষক প্রদর্শনী হলো শিল্পীর জন্মস্থান কলকাতায়।
বিনোদবিহারীর জন্ম ১৯০৪ সালে। জন্ম থেকেই এক চোখে দেখতে পেতেন না তিনি। আরেক চোখের দৃষ্টি ছিল ক্ষীণ। ৫৩ বছর বয়সে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। ১৯৮০ সালে মৃত্যুর আগে নতুন ধারার ল্যান্ডস্কেপ ও দেয়ালচিত্র এঁকে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন মুখার্জি। মূলত ম্যুরাল নিয়ে তাঁর কাজ বেশি, ভাস্কর হিসেবেও কম যান না। তাঁকে বিংশ শতাব্দীর ভারতের আধুনিক চিত্রকলার স্থপতিও বলা হয়।
কলকাতায় প্রদর্শনী শেষ হয়েছে। এ মাসেই বিনোদবিহারীর আঁকা সবচেয়ে দীর্ঘ এই চিত্রকর্ম নেওয়া হবে এক শ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে। শান্তিনিকেতনের ছাত্র ছিলেন বিনোদবিহারী, পরে সেখানে শিক্ষকতাও করেছিলেন।
কলকাতায় প্রদর্শনীর আগে দুবার হাতবদল হয়েছিল চিত্রকর্মটির। ধারণা করা হচ্ছে, সুধীর খাস্তিদার নামে শান্তিনিকেতনের আর্ট স্কুলের একজন ছাত্রের কাছে ১৯২৯ সালের শুরুর দিকে চিত্রকর্মটি হয় বিক্রি, নয় উপহার দিয়েছিলেন বিনোদবিহারী। খাস্তিদার পরে চলে যান দেরাদুনে। সেখানে একটি আর্ট স্কুলের আর্ট শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি আবার চিত্রকর্মটি আরেক শিল্পীকে উপহার হিসেবে দেন। ওই শিল্পী আবার সেটি কলকাতার রস নামে একটি আর্ট গ্যালারির কর্ণধার রাকেশ সাইনিকে দেন। ছয় বছর আগে তিনি এটি কিনে নেন। তবে কত দাম, তা জানাননি।
বিনোদবিহারীর বয়স যখন ২০, তখন তিনি এই হ্যান্ডস্ক্রল আঁকেন। কয়েক স্তরবিশিষ্ট কাগজ যুক্ত করে স্ক্রল চিত্রকর্মটি এঁকেছিলেন। এটি আঁকতে তিনি কালি ও জলরং ব্যবহার করেছেন। প্রথম ফ্রেমটিতে দেখা যাচ্ছে, কেউ একজন একটি গাছের নিচে বসে আছেন। ছবির সে ব্যক্তি হতে পারেন শিল্পী নিজেই। এই দৃশ্যটির মধ্য দিয়েই শিল্পী শান্তিনিকেতনের ভেতর দিয়ে তাঁর দর্শকদের এক ভ্রমণে নিয়ে যান। ছবির ব্যক্তির মাধ্যমে ভ্রমণের এমন চিত্রকর্ম সাধারণত জাপান ও চীনের হ্যান্ডস্ক্রলে দেখা যায়।
চিত্রকর্মটিতে মোট ২২টি মানুষের প্রতিকৃতি, ২২টি গবাদিপশু, ৩টি মুরগি, একটি কুকুর ও একটি পাখি আছে। মাটি আর আকাশকে চিত্রায়িত করতে চিত্রকর্মটির কিছু জায়গা খালি রেখেছেন শিল্পী।
প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট শিল্প-ইতিহাসবিদ শিব কুমার বলেন, স্ক্রলটিতে শিল্পী তাঁর জীবনের নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি যে ভবিষ্যতে একজন প্রতিভাধর শিল্পী হবেন, তার আভাস ছিল এ চিত্রকর্মে।