পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইশতেহার ঘোষণা করলেন অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে বিজেপির ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে অমিত শাহ ও দলের অন্য নেতারা। শুক্রবার কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলেছবি: ভাস্কর মুখার্জি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শুক্রবার কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ।

ইশতেহার ঘোষণার সময় অমিত শাহ বলেন, ‘আপনারা এই রাজ্যে তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে এবং সোনার বাংলা গড়তে এবার বিজেপিকে ভোট দিন। বিজেপির সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সফল করতে দিন। এই ইশতেহার আগামীতে এই রাজ্যকে সোনার বাংলায় রূপ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অমিত শাহ বলেন, এই ইশতেহার এই রাজ্যের মানুষকে নিরাশা থেকে আলোর পথ দেখাবে। সিন্ডিকেট রাজ, অনুপ্রবেশকারীদের এই রাজ্য থেকে বিতাড়নের পথ দেখাবে। এই ইশতেহার ভরসার এক শপথ।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, আয়ুষ্মান ভারতসহ কেন্দ্রীয় সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে আশ্বাস দেন অমিত শাহ। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবাজদের বিচার করা হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হবে। ৩৩ শতাংশ সরকারি চাকরি নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। নারীদের নিরাপত্তার জন্য দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড গঠন করা হবে, সপ্তম বেতন বোর্ড কার্যকর করা হবে, হতশ্রী চা–বাগান ও চা–শ্রমিকদের উন্নয়নের সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজেপির এই নেতা আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে বিতাড়ন করা হবে। তৃণমূল আমলের ১৫ বছরের ঘুষ, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে প্রকাশ করা হবে শ্বেতপত্র।

অমিত শাহ বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে সীমান্তের উন্মুক্ত স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে, সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে, সেখানে আধুনিক হাসপাতাল গড়া হবে, অবসান করা হবে এই রাজ্যের মাফিয়ারাজ ও সিন্ডেকেটরাজ এবং চাঁদাবাজির রাজনীতি।

বিজেপি নির্বাচনে জিতলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ বলেন, কোনো সুযোগ্য বাঙালিই এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

নির্বাচনী জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার চব্বিশ পরগনার স্বরূপনগরে
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

বিজেপি দুমুখো সাপ: মমতা

এদিকে নির্বাচনের প্রচারে নেমে বিজেপিকে ‘দুমুখো সাপ’ আখ্যায়িত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, বিজেপি দুমুখো সাপ। একটা ছোবল দেয় নির্বাচনের সময়, আর একটা দেয় নির্বাচনের পর। তাই যদি ছোবল খেতে না হয়, তবে এবার বিজেপিকে হটানোর জন্য তৃণমূলকে ভোট দিন।

শুক্রবার দুপুরে উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বরূপনগরে এক নির্বাচনী জনসভায় মমতা এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে ওরা কাউন্টিং স্লো (ভোট গণনায় ধীরগতি) করে রটাবে নানা কথা। বিজেপির সিটগুলোর ফলাফল আগে দেখাবে, যাতে আপনারা তাড়াতাড়ি চলে যান। ওরা এরপর দখল করে নেবে। বিজেপির এই খেলা খেলতে দেবেন না। কাউন্টিংয়ের রেজাল্ট (গণনার ফল) নিয়ে তবে বেরোবেন এজেন্টরা।

মমতা আরও বলেন, ‘জল্লাদ–ধর্ষণকারীদের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে হবে। দিল্লির জমিদার ও জোতদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিততে হবে। তাই তৃণমূলকে ভোট দেবেন। বিজেপির প্ল্যান এনআরসি (জাতীয় নাগরিক পঞ্জি) করবে। ডিলিমিটেশন (সীমানা পুনর্নির্ধারণ) করে বাংলাকে তিন টুকরা করে দেবে। সাবধান! ওরা বলে এক, করে আরেক। ওরা হলো মিথ্যা কথার কারখানা। এসআইআরের (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) মাধ্যমে নাম কাটার কারখানা। দাম বাড়াবার কারখানা।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপি এখন মানুষের যন্ত্রণা। ওরা বাংলাকে করে লাঞ্ছনা, বাংলাকে করে বঞ্চনা। তাই একটি ভোটও বিজেপিকে নয়। এই বাংলায় যদি একজনও অনুপ্রবেশকারী ঢোকেন, তাহলে তো অমিত শাহর পদত্যাগ করা উচিত। কারণ, অমিত শাহ নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএসএফ তাঁর হাতে।