মোদি সরকার দাবি পূরণ করেনি, আবার রাজপথে নামছেন তেলাপোকারা

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ১২ আগস্ট ২০২৬, নয়াদিল্লিছবি: এএনআই

সরকার কথা দিয়ে কথা না রাখায় ফের পথে নামতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রতিশ্রুতি আদায়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের দিন সিজেপি নেতৃত্ব দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। সেখান থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিল করে তারা যাবে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরে। সিজেপির ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গতকাল সোমবার এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছে।

সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, গত ২৫ জুলাই ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন প্রত্যাহারে কেন্দ্রীয় সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পুরোপুরি মানা হয়নি। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ওই সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এক মাস কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার ব্যর্থ। তাই তাঁরা আরেকবার আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাংকা ও সৌরভ দাস জানিয়েছেন, তাঁদের সমাবেশ হবে পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। এই প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন আত্মঘাতী নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবার ও সংসদ অভিযানের সময় পুলিশি অত্যাচারের শিকার ব্যক্তিরা।

সিজেপি নেতারা বলেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য তিনটি দাবি রেখেছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, আন্দোলনকারী যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে, তা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং আত্মঘাতী নিট পরীক্ষার্থীদের প্রতি পরিবারকে এক কোটি রুপি অর্থসাহায্য।

সরকার তিনটি দাবিই মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাবি করে সিজেপি নেতারা বলেছেন, গত ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। প্রতিশ্রুতির নিরিখে সিজেপিও যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রীকে তাঁরা বিশ্বাস করেছিলেন। ভেবেছিলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি রাখবে। কিন্তু তারপরেও সরকার বাকি দুটি দাবি মানেনি। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা পথে নামার কর্মসূচি নিয়েছেন।

দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে অধিকাংশ পড়ুয়ার ওপর দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করা হলেও দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২ হাজার ৮৭৩ জন পড়ুয়াকে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যক্রমের পুরোনো রেকর্ড আছে বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশ তাঁদের চিহ্নিত করেছে ‘ফেশিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম’ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। দিল্লি পুলিশের দাবি, চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো অপরাধের রেকর্ড আছে। তাঁদের মামলা প্রত্যাহারে দিল্লি পুলিশ রাজি নয়।

পুলিশের এই দাবি মানতে চাইছেন না সিজেপি নেতৃত্ব। অভিজিৎ, আশুতোষ ও সৌরভ বলেছেন, দিল্লি পুলিশ আইন ও প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মানতে চাইছে না। তারা সময় নষ্টের খেলা খেলে চলেছে। এমনকি তারা সুপ্রিম কোর্টকেও বিভ্রান্ত করছে। সর্বোচ্চ আদালতের কাছে তথ্য জমা দিচ্ছে না।

সিজেপি নেতারা জানান, ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে মোট কত এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। বিচারপতিরা জানিয়েছিলেন, তালিকা পেলে সব এফআইআর বাতিলের বিষয়টি একই সঙ্গে বিবেচনা করা যাবে। অথচ সরকার আজও তা জমা দেয়নি।

সিজেপি নেতারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এক মাস অতিক্রান্ত হলেও সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। সব এফআইআর যেমন প্রত্যাহার করা হয়নি, তেমনই আত্মঘাতী পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়নি। বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, ‘আমরা এক মাস ধৈর্য ধরেছি। সরকার যেন এটা আমাদের দুর্বলতা মনে না করে।’ কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করলে তাঁরা মেনে নেবেন না।

৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেটের কাছে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিজেপি নেতারা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করানো হলেও সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

সিজেপির এই আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে দিল্লি পুলিশ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। সরকারও নয়। ইন্ডিয়া গেটে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা–ও জানানো হয়নি। অনুমতি না পেলে সিজেপি কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাও আপাতত অজানা।