পশ্চিমবঙ্গে ২৯১ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা: মমতা বললেন, ‘দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না’

কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭ মার্চ, ২০২৬ছবি: ভাস্কর মুখার্জী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল কংগ্রেস দার্জিলিংয়ের বাকি তিনটি আসন ছেড়ে দিয়েছে পাহাড়ের মিত্র অনিল থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার জন্য। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে নিজের জয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

বিজেপিকে লক্ষ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি এই রাজ্যে কোনোভাবেই জিততে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা এবার ২২৬টি আসনে জয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করব।’ ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলের চেয়েও এবার বিজেপির অবস্থান তলানিতে যাবে বলে তিনি দাবি করেন।

গত নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি ও বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘বিজেপি কেন মেঘনাদের মতো মেঘের আড়ালে থেকে লড়াই করছে? সাহস থাকলে সামনে আসুন, প্রকাশ্যে লড়াই করুন। কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে কলকাঠি নাড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বয়কট বিজেপি, নো ভোট টু বিজেপি। নির্বাচনের পর এই বিজেপির নেতা-কর্মীরাই পোস্টার লাগিয়ে ঘুরবেন যে “আমি বিজেপি করি না”’।

তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, ‘দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না, তাই তো ওরা ভয় পেয়েছে।’ এসআইআর, নোটবন্দী ও গ্যাসের সংকট তৈরি করার জবাব এবার বাংলার মানুষ দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন বাংলার নির্বাচন নিয়ে এক ‘অসাধারণ খেলায়’ মেতেছে এবং দাঙ্গা বাধিয়ে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্য থেকে শীর্ষ বাঙালি কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তৃণমূলের এবারের প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছেন নতুন মুখ ও বিনোদনজগতের তারকারা। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গৌতম দেব, উদয়ন গুহ, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, ব্রাত্য বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তালিকায় আরও নাম রয়েছে মদন মিত্র, সওকাত মোল্লা, সব্যসাচী দত্ত, পরেশ চন্দ্র অধিকারী ও চন্দ্রনাথ সিংয়ের। বিনোদনজগৎ থেকে প্রার্থী হয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাভলি মৈত্র। এ ছাড়া কুণাল ঘোষ ও পবিত্র করকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থীর বয়সভিত্তিক ও সামাজিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, এবার তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে ৫২ জন নারী, ৯৫ জন তপসিলি সম্প্রদায়ের এবং ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। বয়সের বিচারে প্রার্থীরা বেশ বৈচিত্র্যময়। ৩১ বছরের নিচে ৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৩৮ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৮৮ জন। তালিকায় ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৮৯ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের ৪৭ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী ২৩ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সের মধ্যে ২ জন প্রবীণ নেতাকে প্রার্থী করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞ ও নবীনের সমন্বয়েই এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল।