নিজের কারাবাসের কথা মনে করে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আমি সেদিন কোনো অপরাধ করিনি। সেদিন আমি বলেছিলাম, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আজ সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও বলছে, সে ষড়যন্ত্রের শিকার। এবার বুঝুক পার্থ, ষড়যন্ত্রের কী জ্বালা। সেদিন আমিও বলেছিলাম, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। সেদিন আমার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আর এর পেছনে ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা। তখন আমাকে বলা হয়েছিল পাগল।’

গতকাল শুক্রবার পার্থ ও অর্পিতার ১২ দিনের ইডি হেফাজত শেষ হওয়ার পর তাঁদের কলকাতার নগর দায়রা আদালতের বিশেষ বিচারকের এজলাসে তোলা হয়। তখন বিচারক পার্থের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেন। পাশাপাশি অর্পিতা জামিনের জন্য কোনো আবেদন না করায় তাঁকেও ১৪ দিনের জেল হেফাজত দিয়ে বলা হয়, ১৮ আগস্ট তাঁদের আবারও তোলা হবে আদালতে।

ইডি অর্পিতা মুখার্জির বেলঘরিয়া ও টালিগঞ্জ আবাসন থেকে নগদ ৪৯ কোটি ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণ সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রা। ইডি দাবি করেছে, এসব অর্থ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। যদিও পার্থ উল্টে বলেছেন, তাঁর কোনো অর্থ নেই।

কুণাল ঘোষের সঙ্গে অতীতে বৈরীভাব ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। কুণাল কারাগারে গেলে তাঁকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে মনে করে আসছিলেন পার্থ। সে কারণে আর ইডির হাতে অর্পিতা ও পার্থর বিপুল অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের পর কুণাল ঘোষ পার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

কুণাল ঘোষ পেশায় ছিলেন একজন সাংবাদিক। নেশায় ছিলেন রাজনীতিক। তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্যও ছিলেন। এখন এই রাজ্যের তৃণমূলের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় ছিলেন সারদার মিডিয়া সেলের প্রধান। সিইও ছিলেন কলকাতা, আসাম থেকে প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ভাষার পত্রিকাসহ সব মিলিয়ে সারদা গোষ্ঠীর ১০টি পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলের নির্বাহী কর্মকর্তা।

কুণাল ঘোষ ২০১৩ সালে ফেঁসে যান সারদার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে। সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেন তাঁর কাজের মজুরি হিসেবে। সারদার হাজার হাজার কোটি রুপির ব্যাপক দুর্নীতির খবর ফাঁস হলে সিবিআই হাতে নেয় সারদার অর্থ আত্মসাতের মামলা। অন্যদের সঙ্গে কুণাল ঘোষ সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর। এর দুই মাস পর তৃণমূল কুণালকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করে। তখন সংসদ সদস্য পদও হারান কুণাল।

একসময় এই কুণাল ঘোষ খেপে ওঠেন মমতার বিরুদ্ধে। দাবি তোলেন, সারদা মামলায় মমতাকেও সিবিআই জেরা করুক। তখন তিনি অভিযোগ করেন, মমতাও সারদা থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু কুণাল ঘোষের এসব অভিযোগকে পাত্তা দেননি মমতা।

সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ২ বছর ১০ মাস জেল খাটেন কুণাল। এরপর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

মুক্তির পর তাঁকে আবারও দলে টেনে নেন মমতা। ২০২০ সালের জুলাই মাসে তৃণমূল তাঁকে দলের মুখপাত্র করেন। ২০২১ সালের জুন মাসে কুণাল ঘোষকে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে বসান। সেই থেকে কুণাল ঘোষ দলের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন