বিজেপির নতুন সভাপতি হলেন বিহারের বিধায়ক নিতিন নবীন

বিজেপির নতুন সভাপতি নিতিন নবীনকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০ জানুয়ারি ২০২৬, নয়াদিল্লিছবি: এএনআই

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নিতিন নবীন। বিজেপির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী সভাপতি হিসেবে আজ মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন।

নবীন বিহার রাজ্যে বিজেপিদলীয় পাঁচবারের বিধায়ক। তাঁর বাবা নবীন কিশোর সিনহা বিহার রাজ্য বিধানসভার চারবারের সদস্য ছিলেন।

এই নির্বাচনে নিতিন নবীন ছাড়া আর কোনো প্রার্থী ছিলেন না। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নতুন সভাপতি নিতিন নবীন দলের এই নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলে প্রশংসা করেছেন।

নিজে একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নিতিন নবীন দাবি করেন, বিজেপিই একমাত্র দল, যেখানে ‘বড় দায়িত্ব বা পদ পাওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই।’

৪৫ বছর বয়সী নবীন বিজেপির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বলেন, বিজেপির সভাপতি হওয়া একজন সাধারণ কর্মী তিনি।

নবীন আরও বলেন, বিজেপি দেশের একমাত্র দল, যেখানে সাধারণ পরিবারের মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। একজন সাধারণ কর্মী জাতীয় সভাপতির মতো দায়িত্ব পেতে পারেন। এখানে সাধারণ কর্মী হওয়াটাই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।

দলীয় সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নিতিন গড়করি এবং রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে নবীন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও মোদি দাবি করেন, এই নির্বাচন ‘শতভাগ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে’ সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন সভাপতির কর্তৃত্ব তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, নবীন এখন থেকে তাঁর ‘বস’ এবং তিনি নিজে একজন সাধারণ দলীয় কর্মী। তবে লক্ষ করার মতো বিষয় হলো, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছিল ৪৯ মিনিটের, সেখানে নতুন সভাপতির ভাষণ ছিল মাত্র ২০ মিনিটের এবং তা মোদির প্রতি শ্রদ্ধায় পূর্ণ ছিল।

মোদি বলেন, ‘মানুষ ভাবতে পারেন, নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, ২৫ বছর ধরে সরকারের প্রধান—এসব ঠিক আছে। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমি একজন বিজেপিকর্মী। এটাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব। যখন দলের বিষয় আসে, তখন নিতিন নবীন আমার বস এবং আমি কেবল একজন কর্মী।’

নিতিন নবীন তাঁকে সভাপতি হিসেবে নাম প্রস্তাব করার জন্য তিনি মোদি ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানের প্রশংসা করেন এবং অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ ও ৩৭০ ধারা বাতিলের মতো কাজগুলোর কথা উল্লেখ করেন।