তবে দুর্নীতির ক্ষতে প্রলেপ দিতে এখন মাঠে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। এর পাশাপাশি নেমেছেন মমতার ভাইপো ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্কুলশিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চাকরি না দিয়ে দলীয় প্রভাবে অন্য অনেককে চাকরি দেওয়ার ঘটনা দিয়ে শুরু। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন ২০১৭ সালের চাকরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। তাঁরা অবিলম্বে তাঁদের চাকরি দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা চাকরির দাবিতে কলকাতার ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে শুরু করেন অবস্থান আন্দোলন। সেই আন্দোলন গতকাল শুক্রবার ৫০২ দিন পার করেছে।

পার্থের দুর্নীতির কাণ্ডের পর প্রলেপ দেওয়ার অংশ হিসেবে গতকাল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি চাকরি নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকেন ধর্মতলায় অবস্থানরত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের। প্রতিনিধিদের জন্য ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। সেখানে অভিষেক-ব্রাত্য আলোচনা করেন চাকরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চাকরির বিষয়ে। আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁরা খুশি এই আলোচনায়। অলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। অভিষেক-ব্রাত্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শতভাগ চাকরির নিশ্চয়তা। প্রতিনিধিদলের অন্যতম নেতা মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করব চাকরির জন্য। চাকরি পেলে আমরা নিশ্চয়ই খুশি হব।’

তবে এই বৈঠক এবং চাকরিপ্রার্থীদের দেওয়া সরকারি প্রতিশ্রুতির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন বিরোধীরা। তাঁদের কথা, অভিষেক কি চাকরির কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেন?

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, সরকার ও দলের মধ্যে যে একটা পার্থক্য রয়েছে, সেটা হয়তো বুঝতে পারছে না তৃণমূল বা পশ্চিমবঙ্গ সরকারও। আসলে তো এটা চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন ভাঙার এক চক্রান্ত।

আবার রাজ্য সিপিএমের সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, অসাংবিধানিক বিষয়কে প্রতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া তৃণমূলের কাজ। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

নিয়োগসংক্রান্ত আলোচনা দলীয় দপ্তরে হয়েছে বলেই আজ এত দুর্নীতি হয়েছে।
ধরনারত চাকরিপ্রার্থীদের ডেকে এনে তাঁদের কথা শোনার এ তৎপরতার মধ্যে তৃণমূলের নমনীয় মনোভাব স্পষ্ট। এর পাশাপাশি আবার শুরু হয়েছে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের তৎপরতা। এ জন্য আগামী সোমবার বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন তিনি।

মন্ত্রিসভায় সদস্যসংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এ জন্য বিধায়কদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন হচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই, তাঁদেরই মন্ত্রিসভায় ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। এতে পার্থকাণ্ডে দলের চরম মানহানি রোধ হতে পারে বলে তৃণমূল শিবির মনে করছে।

এর আগে সারদা ও নারদাকাণ্ডে দলের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূল। কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অনেক স্থানে মিছিল পর্যন্ত হয়েছিল। কিন্তু এবার এসবের কিছুই হয়নি। তবে শুরুতে পার্থের দিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও অবস্থা বেগতিক দেখে তৃণমূল কৌশল পাল্টায়। এর অংশ হিসেবেই মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে বাদ দেওয়া এবং তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত। কিন্তু এর ফলে তৃণমূল দলটির প্রকৃত চেহারা বের হয়ে গেছে বলে মনে করেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথা, পার্থের মতো অনেক পার্থ তৃণমূলে আছে। এই দুর্নীতি একটি সংগঠিত অপরাধ। এতে তৃণমূল যুক্ত আছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন