কেন্দ্রীয় সরকার গতকাল শুক্রবার ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে। আবেদনে বলা হয়েছে, রায়ের আগে সরকারকে যথেষ্ট শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে তা ন্যায়বিচারের নীতিবিরোধী হয়েছে এবং যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা ন্যায্য নয়। ওই রায় ভুল সিদ্ধান্তের উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুমবুদুরে এক জনসভায় যাওয়ার সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মারা যান। সেই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় অপরাধীদের। ওই সাতজনের অন্যতম পেরারিভালান গত মে মাসে মুক্তি পান। যে কারণে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে মুক্তি দিয়েছিলেন, সেই যুক্তিতেই অন্য ছয় অপরাধীকেও ১১ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত মুক্তি দেন। সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্ত ঘিরে সেই থেকে বিতর্ক অব্যাহত।

এটা ঠিক যে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড লাঘব করতে রাজীব জায়া সোনিয়া গান্ধী নিজেই সচেষ্ট হয়েছিলেন। ২০০০ সালে তাঁর হস্তক্ষেপের কারণে নলিনীর সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। ক্রমেই অন্য অপরাধীদের সাজাও হয়ে যায় যাবজ্জীবন। ২০০৮ সালে ভেলোর জেলে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র দেখা করেছিলেন নলিনীর সঙ্গে। পরে জানিয়েছিলেন, অপরাধীদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু গান্ধী পরিবারের এই মনোভাবের সঙ্গে কংগ্রেস একমত হয়নি। সব অপরাধীর মুক্তির পর কংগ্রেস দলগতভাবে সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল। দলের পক্ষে এ কথাও বলা হয়েছিল, গান্ধী পরিবার যা বলেছে, তা তাদের ব্যক্তিগত। ওই মনোভাব দলগত নয়। সুপ্রিম কোর্টের রায় ভুলে ভরা। দেশের মনোভাব ও মানসিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন।

একই অভিমত ছিল কেন্দ্রীয় সরকারেরও। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রায় পর্যালোচনার আবেদন পেশ করার পর কংগ্রেসও সেই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই দল রায় পর্যালোচনার আবেদন জানাবে। দলীয় নেতাদের দাবি, ওই রায় দেশে ভুল বার্তা দিচ্ছে।