পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরে যাচ্ছে, শেষের পথে সংস্কার

ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংছবি: প্রথম আলো

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় ফিরে যাচ্ছে পূর্বতন মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চলে আসছিল এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। এটি মহাকরণ নামেও পরিচিত।

২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ২০১৩ সালে তিনি রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সরিয়ে নিয়ে যান হাওড়ায় কলকাতার হুগলি নদীর অন্য পাড়ে। সেখানেই তিনি রাজ্য সচিবালয় গড়েছিলেন নবান্ন নাম দিয়ে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে পরাস্ত হন মমতা। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরকারে এসে ঘোষণা দেন, রাজ্য সচিবালয় ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী এই বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়। শুভেন্দু ক্ষমতা গ্রহণের পর অস্থায়ীভাবে তাঁর দপ্তরের কাজ নবান্নেই সম্পন্ন করছিলেন।

রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। তাই রাজ্য সরকার এবার পূজার আগেই নবান্ন থেকে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। জানা গেছে, পূজার আগে আগামী ১০ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীসহ আরও ৫ মন্ত্রীর দপ্তর শুরু হবে এই মহাকরণে। এসব দপ্তরের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখান থেকে দুর্গাপূজার আগেই মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়ের কাজ শুরু করবেন। যদিও পূজা শুরু হবে ১৫ অক্টোবর থেকে। ওই দিন দুর্গাপঞ্চমী।

আরও জানা গেছে, আগে এই মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর ছিল দোতলায়, এবার তা হচ্ছে তিনতলায়। সংবাদ মাধ্যমের খবরে আরও প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের দপ্তর সংস্কার করে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক বা ডিজির দপ্তরও তৈরি করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দপ্তরের কাজ এখনো অনেকটা বাকি।

ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং তৈরি হয়েছিল কলকাতার ঐতিহাসিক ডালহৌসি বা বিবাদী বাগের লালদিঘীর উত্তরপাড়ে। সেই ১৭৮০ সালে। এই ভবনের নকশা তৈরি করেছিলেন টমাস লায়ন। মূলত ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের কেরানিদের বসবাসের জন্য এখানে তৈরি করেছিলেন ১৯টি পৃথক ঘর। আগে এই স্থানে ছিল কলকাতার প্রথম চার্চ ‘সেন্ট অ্যান চার্চ।’ ষোড়শ শতকে নির্মিত হয়েছিল এই চার্চ। এটিই ছিল ব্রিটিশদের তৈরি প্রথম চার্চ। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি ভেঙে গেলে সেখানে তৈরি হয় করণিক বা কেরানিদের থাকার আবাসস্থল। করণিকদের জন্য গড়া এসব আবাসস্থল পরবর্তী সময়ে হয়ে যায় মহাকরণ। আর সেদিন করণিকদের বলা হতো রাইটার্স। সেই হিসেবে এসব ভবনের পরবর্তী সময়ে নাম হয়ে যায় রাইটার্স বিল্ডিং।