কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী: বইমেলার নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হচ্ছে ইজেডসিসি ও ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বইমেলা এবার ৫০ বছরে পা দিচ্ছে। তাই এবারের বইমেলা আরও জাঁকজমকভাবে করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মূল আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বইমলাকে সুন্দর করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মমতার আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরাও কলকাতার এই বইমেলাকে সুন্দর করার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।
এবার পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। তৃণমূল থেকে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তবে বিজেপি এই মেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের ওপর হস্তক্ষেপ করেনি; বরং মেলাকে আরও সুন্দর করার জন্য রাজ্য সরকার ২৪ সদস্যের একটি পরামর্শক বা উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে দিয়েছে। তবে বইমেলা করার দায়িত্ব গিল্ডের হাতেই রেখেছে।
এবার এই গিল্ড অবশ্য একা বইমেলার দায়িত্ব নিচ্ছে না। এর সঙ্গে রাজ্য সরকার পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র (ইজেডসিসি) এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টকেও যুক্ত করেছে।
একই সঙ্গে এই বইমেলাকে সার্থক ও সুন্দর করার জন্য গড়ে দেওয়া হয়েছে ২৪ সদস্যের একটি উপদেষ্টা বা পরামর্শক কমিটি। এই কমিটিতে এবার রাখা হয়েছে রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, আরএসএসের মুখপত্র ভারতীয় জনবার্তার প্রতিনিধিও। আরও রয়েছেন সাংবাদিক প্রসেনজিৎ বকসি, অধ্যাপক অরিন্দম ভট্টাচার্য, মোহিত রায়, অনিল আচার্য, সপ্তর্ষি চৌধুরী, ওসমান গনি, রাজকুমার বর্মণসহ কলকাতার বিশিষ্টজনকে।
কলকাতা বইমেলা শুরু হয় ১৯৭৬ সাল থেকে। এবার এই বইমেলা ৫০ বছরে পা দিচ্ছে। এই বইমেলায় বিভিন্ন দেশকে থিম কান্ট্রি করে প্রতিবছর সম্মান জানানো হয় বিভিন্ন দেশকে। বাংলাদেশও এই বইমেলায় তিনবার থিম কান্ট্রি ছিল। এবার অবশ্য এই বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে বইমেলার থিম করা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম–এর ১৫০ বছরকে। সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ বছর এবং রক্তকরবীর শতবর্ষকে।
এবারও এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে সল্ট লেকের সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলার নিজস্ব ময়দানে। তবে বইমেলায় কারা কারা আসছেন, কোন কোন দেশ যোগ দিচ্ছে—এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
বুধবার বইমেলার আয়োজন এবং উপদেষ্টা কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। তবে গিল্ড সূত্রে জানা গেছে, বইমেলার মূল আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড কমিটির বর্তমান সভাপতি সুধাংশু শেখর দে ও সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় তাঁদের পদে থেকেই এবারের বইমেলার আয়োজন করছে। যদিও এই দুই কর্মকর্তাকে উপদেষ্টা বা পরামর্শক কমিটিতে রাখা হয়নি। বইমেলা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি; আর শেষ হবে ৩ ফেব্রুয়ারি।
গিল্ডের সভাপতি সুধাংশ শেখর দে বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, এবারও বইমেলার আয়োজন করবে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। তবে এবার বইমেলার সুবর্ণ বর্ষে বইমেলাকে আরও সুন্দর করার জন্য গড়া হয়েছে ২৪ সদস্যের একটি পরামর্শক বা উপদেষ্টা কমিটি। এই কমিটিতে গিল্ডের চারজন সদস্যসহ কলকাতার বিভিন্ন স্তরের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনেরা আছেন।
পরামর্শক কমিটির সদস্য সপ্তর্ষি চৌধুরী বলেছেন, এই পরামর্শক কমিটি গঠন করে রাজ্য সরকার বুঝিয়ে দিয়েছেন—সরকার এই বইমেলা নিয়ন্ত্রণ করবে না।