এবার মণিপুরে কুকি-নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ

সহিংসতার আশঙ্কায় ভারতের মণিপুর রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মণিপুরছবি: মণিপুর পুলিশের এক্স হ্যান্ডল থেকে নেওয়া

উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তবে গত দুদিন ধরে চলা এই সংঘর্ষ কুকি ও নাগাদের মধ্যে হচ্ছে বলে রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গতকাল সোমবার টাংখুল নাগা নামে নাগা সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠীর এক সদস্যকে মারধরের খবরকে কেন্দ্র করে উখুরুল জেলায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সশস্ত্র জঙ্গিরা বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়। বাড়িঘরেও আগুন দেওয়া হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এর আগে গত রোববার রাতে উখুরুলের লিটান গ্রামে দুটি আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, গত শনিবার গভীর রাতে লিটান গ্রামে সাত থেকে আটজন ব্যক্তি এক টাংখুল নাগা ব্যক্তিকে মারধর করার পর সহিংসতার সূত্রপাত হয়। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগীর পরিবার ও লিটান সারেখং-এর প্রধানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছিল। উভয় পক্ষ প্রথাগত রীতির মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের বিষয়ে একমত হয়েছিল।

বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার জন্য গত রোববার দুপুরে একটি বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু বৈঠকে সমস্যার সমাধান হয়নি বরং সংঘাত বাড়তে থাকে।

গত রোববার মধ্যরাত নাগাদ লিটান সারেখংয়ে টাংখুল নাগা পরিবারের একাধিক বাড়িতে কথিত কুকি জঙ্গিরা আগুন ধরিয়ে দেয়। পাল্টা হিসেবে নিকটবর্তী এলাকায় কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যদের বেশ কিছু বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। টাংখুলরা মণিপুরের বৃহত্তম নাগা উপজাতি। অন্যদিকে লিটান সারেখং মূলত কুকি অধ্যুষিত একটি গ্রাম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দিচ্ছে এবং ইউনিফর্ম পরা কিছু ব্যক্তি শূন্যে গুলি ছুড়ছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একজন জেলা কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি থমথমে। নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে লিটান গ্রামের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় সারেখংয়ে বিক্ষোভকারীরা প্রবলভাবে পাথর ছুড়তে শুরু করলে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তাকর্মীরা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেন। রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের ছাড় দিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

উখুরুল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ দাসের জারি করা আদেশ অনুযায়ী, টাংখুল নাগা এবং কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে শান্তি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার গুরুতর আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।