বিদেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফিরেই গতকাল সোমবার বিকেলে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন শশী থারুর। আগামী ১৭ অক্টোবরের দলীয় নির্বাচনে লড়তে তাঁর সম্মতি পান এই নেতা।

কয়েক ঘণ্টা পরই সভাপতি পদে অশোক গেহলটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা আসে। এতে জমে উঠে নেতৃত্বের লড়াই। রাজস্থানের এই মুখ্যমন্ত্রী গান্ধী পরিবারের একান্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগেও তিনি রাহুল গান্ধীকে কংগ্রেসের সভাপতি পদে ফিরতে চাপ দিয়ে আসছিলেন। দলের বর্তমান নেতৃত্বের স্থিতাবস্থা ও রাহুলের ফেরার পক্ষে যাঁরা আছেন, তাঁদের সমর্থন পেতে পারেন অশোক গেহলট।

দলের যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা কংগ্রেস আইনপ্রণেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘যিনিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান স্বাধীনভাবে করতে পারেন এবং তাঁকে স্বাগত জানাই। এটাই কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীর ধারাবাহিক অবস্থান। এটা উন্মুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। প্রতিযোগিতার জন্য কারও কাছ থেকে সম্মতি নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।’
তিন দিনের মধ্যে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল শুরু হবে। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার পদত্যাগের পটভূমিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত যাচ্ছে। সবশেষ এ তালিকায় আছেন জ্যেষ্ঠ নেতা গুলাম নবি আজাদ। তাঁকে অনুসরণ করে জম্মু-কাশ্মীরের অধিকাংশ নেতাই পদত্যাগ করেন।

সোনিয়া গান্ধী ১৯ বছর কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০১৭ সালে ছেলে রাহুলের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। সাধারণ নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বার দলের ভরাডুবির পর রাহুল ২০১৯ সালে পদত্যাগ করেন। এরপর অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন সোনিয়া গান্ধী। তবে এতে সংকট এড়ানো যায়নি। একের পর এক রাজ্যসভা নির্বাচনে হারে দলটি। দাবি উঠে নেতৃত্বের ব্যাপক পরিবর্তন আনার।

রাহুল গান্ধী বর্তমানে দলের ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অশোক গেহলটসহ কংগ্রেস নেতাদের একাংশের অবিরাম দাবি সত্ত্বেও সভাপতি হিসেবে ফেরার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। পদত্যাগী কয়েকজন নেতার দাবি, দলীয় ফোরামের বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন রাহুল গান্ধী। তাঁদের আরও অভিযোগ, রাহুলের আশপাশে থাকা একটি গোষ্ঠীই কাজটি করিয়ে থাকে।

দলের সভাপতি পদে নির্বাচন ঘোষণার পরই কংগ্রেসের একের পর এক রাজ্য শাখা রাহুলকে সভাপতি পদে ফেরার আহ্বান জানান। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এ ধরনের অনুরোধ আরও জোরদার হতে পারে। দলের অনেকে মনে করেন, এটা রাহুলকে ভোটের মাধ্যমে অথবা ভোট ছাড়াই দায়িত্বে ফেরানোর চেষ্টা। ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রাও তাঁর ভাবমূর্তি ফেরানোর চেষ্টারই অংশ।

গান্ধী পরিবারের বাইরে সবশেষ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন সীতারাম কেশরী। নরসীমা রাও নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর কেশরীর কাছ থেকেই ১৯৯৮ সালে দায়িত্ব নেন সোনিয়া গান্ধী। স্বামী রাজিব গান্ধী হত্যার পর রাজনীতিতে না আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু কংগ্রেসের ওই দুরবস্থার সময় দলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন সোনিয়া গান্ধী।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন