পশ্চিমবঙ্গে ভোটের হার অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রামের একটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ২৩ এপ্রিল ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গছবি: এএনআই

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু রাজ্যে আজ বৃহস্পতিবার মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই রাজ্যের বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশ। মনে করা হচ্ছে, ভোটদানের ক্ষেত্রে অতীতের যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে এবারের নির্বাচন।

রাজ্যে আজ সবচেয়ে বেশি ৯৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ ভোট পড়েছে রঘুনাথগঞ্জে।

একইভাবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দক্ষিণের তামিলনাড়ু রাজ্যে ভোট পড়েছে প্রায় ৮২ শতাংশ। দুই রাজ্যে ভোটের হার শেষ পর্যন্ত বেশ খানিকটা বাড়বে। কারণ, ভোট গ্রহণের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ দুই রাজ্যেই ভোট দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোট হয়েছে প্রায় নির্বিঘ্নে। বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ছোটখাটো কিছু সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপির তারকা প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া বীরভূমের সাঁইথিয়া, কোচবিহারের সিতাই, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর প্রভৃতি জায়গায় বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের দিন কোচবিহারে গুলিবিদ্ধ হয়ে যেভাবে চারজন মারা গিয়েছিলেন, তেমন ঘটনা এবার ঘটেনি।

মুর্শিদাবাদের নওদায় তৃণমূল কংগ্রেস ও হুমায়ুক কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এইউজেপি) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।

২০২১ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরেও বেশ সংঘর্ষ হয়েছিল। সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন প্রায় ২০ জন। নির্বাচনের পরে আরও সংঘর্ষ হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে নির্বাচনের দিনে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটা কৃতিত্ব প্রাপ্য বলে মনে করছেন অনেকে।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে একটি ভোটকেন্দ্রে তৃণমূল ও এইউজেপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২৩ এপ্রিল ২০২৬
এএনআই

পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, সহিংসতা কম হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, দীর্ঘ সাত বা আট দফায় এক মাসের বেশি সময় ধরে নির্বাচন না চলা।

এবার এত বেশি ভোট পড়া কাকে সাহায্য করবে—তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। বিজেপির তরফে অনেকে বলেছেন, এত বেশিসংখ্যক ভোটদান ইঙ্গিত করছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও বেশি করে মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোট দিচ্ছেন।

অধ্যাপক সুনির্মল মালাকারের ভাষায়, এটিকে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়াই বলতে হবে।

অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষে অনেকেই বলেছেন, এই ভোট প্রমাণ করছে, মানুষ সংশোধিত ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। তাঁরা আরও বেশি করে ভোট দিচ্ছেন। কারণ, তাঁরা ভাবছেন, ভোট না দিলে তাঁরা অন্যান্য সুবিধা পাবেন না এবং ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে সরে যাবেন।

কোচবিহারের তৃণমূল সমর্থক প্রদীপ সিংহ রায় বলছেন, এই ভয় নিয়ে যাঁরা ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই নিঃসন্দেহে তৃণমূলকে ভোট দেবেন।

আগামী ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশিত হবে।