default-image

যাত্রীদের অভিযোগ, অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছেন। এতে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বিলম্ব হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ সমস্যা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। যাত্রীদের প্রতিবাদ করারও সুযোগ নেই। প্রতিবাদ করলে তাঁদের যাত্রা বিলম্বিত করা হয়।

জানা গেছে, এই হরিদাসপুর অভিবাসন দপ্তরে যাত্রীদের সেবা দিতে ১৬টি কাউন্টার রয়েছে। কিন্তু খোলা থাকে মাত্র দুই থেকে চারটি কাউন্টার। এতে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হরিদাসপুর সীমান্ত পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করা কয়েকজন বাংলাদেশি যাত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তাঁদের একজন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সাজিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এই লাইনে দাঁড়িয়েছি অনেকক্ষণ। কেউ কেউ দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা হয়েছে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এখানে যাত্রীরা নানা রকমের হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আগে এমনটা ছিল না। জমজমাট ছিল এই পেট্রাপোল-হরিদাসপুর সীমান্ত।’

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি এক নাগরিক প্রথম আলোকে বলেন, এখন যাত্রী এলেও তাঁদের শান্তি নেই। স্থল বন্দরের সব দোকানপাট খালি। মানি একচেঞ্জে টাকা বিনিময় করার যাত্রী নেই। সবাই এখন অন্যভাবে টাকা বিনিময় করে। সেই টাকা বা রুপি নিয়ে সীমান্ত পার হচ্ছেন তাঁরা।

হরিদাসপুর সীমান্ত এলাকার ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতপ্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বারবার এই সীমান্তে যাত্রী হেনস্তার কথা পেট্রাপোল-হরিদাসপুরের অভিবাসন দপ্তরের প্রধান বা চিফ ইমিগ্রেশন অফিসারকে (সিআইও) জানিয়েছি। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।’

প্রসেনজিৎ ঘোষ আরও জানান, এই সীমান্তের ভারতীয় অংশে এখন আর কুলি মিলছে না। যাত্রীদের শুল্ক ও অভিবাসন দপ্তরের কাজ শেষ হওয়ার পর নিজেদের মালপত্র নিজেদের বহন করে নিয়ে যেতে হয় বাস, টেক্সি ও অটোস্ট্যান্ডে। এতে সমস্যায় পড়েন প্রবীণ ও রোগীরা। অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য ট্রলির ব্যবস্থা থাকলেও তা অপ্রতুল। সব সময় পাওয়া যায় না।

এ সময় আরও কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, এভাবে পেট্রাপোল-হরিদাসপুর সীমান্তে যাত্রী হয়রানি চললে এই পথে দুই দেশের যাত্রী চলাচল একেবারে কমে যাবে। যাত্রীরা বেনাপোল-পেট্রাপোল-হরিদাসপুর স্থল বন্দর ছেড়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করারও চিন্তা ভাবনা করছেন।

এদিকে ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট কনজিউমার প্রটেকশন কাউন্সিলের সদস্য উৎপল রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি অবিলম্বে এই পেট্রাপোল-হরিদাসপুর সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ হোক। সীমান্তের অভিবাসন দপ্তরের সব কাউন্টার খুলে দিয়ে যাত্রীদের ভিড় সামলানো হোক।’

হরিদাসপুর সীমান্তে চিফ ইমিগ্রেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ওম প্রকাশ শর্মা। গত বুধবার দুপুরে ওম প্রকাশ শর্মাকে তাঁর পেট্রাপোল দপ্তরে ফোন করা হলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সিআইও কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলবেন না বা মন্তব্যও করবেন না।

default-image

এরপর পেট্রাপোল অভিবাসন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য অভিবাসন কর্মকর্তা পিকে গুনকে ফোন করা হলে তিনিও একই কথা বলেন।

পরে ভারতের পূর্বাঞ্চলের অভিবাসন দপ্তরের প্রধান কেটি ভুটিয়ার সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ তিনি প্রথম শুনলেন। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন