অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলটির বহিষ্কৃত নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি অংশ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে নতুন কর্মসমিতি গঠন করেছে। এই কমিটি থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দলের এই সংকটময় মুহূর্তে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে মমতার নেতৃত্বাধীন মূল বা আদি তৃণমূল কংগ্রেস।
গত সোমবার উলুবেড়িয়া-পূর্ব আসনের বিধায়ক (এমএলএ) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে দলের সভাপতি করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে। প্রথামাফিক কর্মসমিতি গঠনের বিবরণ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে ৩ জুন থেকে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করা এই অংশ।
এর আগে ২ জুন দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ঋতব্রতকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। পরদিন ৩ জুন তাঁর নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়কের একটি দল বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে দেখা করে চিঠি দেন। নতুন এই দল ঋতব্রতকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দাবি করে এবং স্পিকার সেই দাবি মেনে নিয়ে তাঁকেই বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতার স্বীকৃতি দেন। কলকাতা হাইকোর্টও স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেননি। ফলে খাতা-কলমে তিনিই এখন বিরোধীদলীয় নেতা। আগামী ২৮ জুলাই এ বিষয়ে হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
এদিকে ঋতব্রত-পন্থীদের এসব তৎপরতার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির একজন সংসদ সদস্য প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, যাঁরা মূল দলের বিরোধিতা করেছেন, তাঁদের সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে আগেই অবহিত করা হয়েছে। ঋতব্রতর অংশটি কর্মসমিতির বিবরণ জমা দেওয়ার আগেই, গত শনিবার ২৪ জন সদস্যকে নিয়ে মূল তৃণমূলের কমিটি গঠিত হয়েছে। সেই কর্মসমিতির কাজ নিয়েও কমিশনকে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে তাঁদের দলের অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া দলটির এই লড়াই আরও জোরালো হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত আলোচনায় অনেকেই মন্তব্য করছেন, অজানা কোনো কারণে বা বিজেপির আচরণে ভয় পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।