কলকাতায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের ওপর পরপর দুই দিন হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
সশস্ত্র হামলার শিকার হলেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এ নিয়ে পরপর দুই দিন তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটল। ঘটনার পেছনে বিজেপির প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কুণাল। পাল্টা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই নিশানা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা তাপস রায়।
গতকাল রোবার সকালে কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বিধায়ক, তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা কুণাল ঘোষের গাড়ি ঘিরে ফেলে সশস্ত্র বাইক আরোহীদের একটি দল, তাঁর জামার কলার ধরে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করে এবং হাতুড়ি দিয়ে তাঁর হাতে সজোরে আঘাত হানে। পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিলে বিধায়কের সুরক্ষায় নিয়োজিত কলকাতা পুলিশের স্পেশাল সিকিউরিটি অফিসার (পিএসও) নিজের আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন।
কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, আসন্ন কলকাতা পৌর সংস্থা নির্বাচনের আগে তাঁকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত সাজানো হয়েছিল। তিনি এই আক্রমণের জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেন। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি এই দাবি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে দাবি করেছে, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই ফল।
শনিবার দুপুরেও কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। উত্তর পাড়ার মধ্য দিয়ে শ্রীরামপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে একদল দুষ্কতি তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলেছিল। সেই সময়ে গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর, ইট, ডিম নিক্ষেপ এবং রড দিয়ে হামলা চালিয়ে গাড়ির উইন্ডশিল্ড ও জানালার কাচ চুরমার করে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিধায়ক জানান, আগের দিন নিজের গাড়ি ভাঙচুর হওয়ায় রোববার তিনি এক পরিচিত ব্যক্তির গাড়িতে যাতায়াত করছিলেন। বেলেঘাটায় পুরকর্তাদের সঙ্গে সভা করতে যাওয়ার পথে নারকেলডাঙা ব্রিজ ও ফুলবাগান মোড়ের মধ্যবর্তী জায়গায় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা প্রায় এক কিলোমিটার পথ তাঁর পিছু নেয়। শেষে ফুলবাগান ও নারকেলডাঙা মেইন রোডের সংযোগস্থলে মোটরসাইকেল আরোহীরা পথ আটকে তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং রিভলবার উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িচালকের তৎপরতার কারণেই তিনি রক্ষা পান। হামলায় ঘাবড়ে না গিয়ে তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নারকেলডাঙা থানাতে ঢুকে পড়ায় প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয় বলে নেতা জানান। পুলিশ প্রশাসন ঘটনার বিবরণ গ্রহণ করে মামলা রেকর্ড করেছে।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ও বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য নারকেলডাঙা থানায় ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়েছে এবং সংগৃহীত সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার জন্য মামলাটি বেলেঘাটা থানায় স্থানান্তরিত করার কথা জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং রাজ্যপাল আর এন রবির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অন্যদিকে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় ও বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেও আক্রমণের জন্য বিজেপির হাত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, এটি দলের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিবাদের ফসল এবং পুলিশি তদন্তেই সত্য উঠে আসবে।