বিপুল চা-নাশতার ফরমাশ, তদন্তে নেমে অবাক পুলিশ

প্রতীকী ছবি

প্রতিদিন রান্নার ঝক্কি সামলাতে অনেকেরই ভালো লাগে না। একটু হাঁফ ছাড়তে তাই মাঝেমধ্যে রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনান তাঁরা। তবে প্রতিদিন কোনো বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ চা-নাশতার ফরমাশ দেওয়ার বিষয়টি চোখে পড়ার মতোই। সন্দেহ হয়েছিল ভারতের মুম্বাই পুলিশেরও।

বিষয়টি তদন্তে নেমে রীতিমতো হতবাক হতে হয়েছে তাদের।

ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বাইয়ের কাছে রাজোধি সৈকতসংলগ্ন একটি বাসায়। সেখান থেকে প্রতিদিন ভোর চারটার দিকে ৫০ থেকে ৬০ জনের চা-নাশতার ফরমাশ আসত একটি রেস্তোরাঁয়। এ খবর যায় পুলিশের কাছে। গোপনে ওই বাসার ওপর নজর রাখা শুরু করে তারা।

এ নিয়ে গত সোমবার পুলিশ কর্মকর্তা সুভাষ বাভচে বলেন, ‘ওই সৈকতে ছুটির দিনগুলোতে অনেক ভিড় থাকে। তবে অন্য দিন বলতে গেলে কোনো মানুষই থাকে না। এর মধ্যে দিনের পর দিন এভাবে চা-নাশতার ফরমাশের খবরে আমাদের সন্দেহ হয়।’

গত ১১ এপ্রিল ওই বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। দেখা যায়, সেখানে অফিস পেতে বসেছেন একদল লোক। সেখানে বসে তাঁরা অবৈধ কাজ করতেন। তাই তাঁরা তেমন একটা বের হতেন না। এ কারণেই প্রতিদিন ভোরে খাবার আনা হতো বাইরে থেকে। অভিযানে ওই অফিসের মালিকসহ ৪৭ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই অফিস একটি ভুয়া কল সেন্টার ছিল বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা সুভাষ বাভচে। তিনি বলেন, অফিসে অভিযানের সময় অনেকে সেখানে ফোন কলে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁরা মূলত অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতেন। পাসওয়ার্ডের মতো নিরাপত্তা–সংক্রান্ত তথ্যও চুরি করা হতো।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা সুভাষ বলেন, ‘যা আমরা দেখেছি, তা হয়তো একটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র।’