আর জি কর হত্যাকাণ্ডে বিতর্কিত নির্মল ঘোষকে দলে নিলেন না তৃণমূলের বিদ্রোহীরা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন থামছে না। দলটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সর্বশেষ নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে। এখন এসব আসনের তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছেন।
রোববার এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বলেছেন, ‘আমরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যে আমাদের দলে ৬৫ বিধায়ক নাম লিখিয়েছেন। গত দুই দিনে তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মন্ডল ও সাবেক মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আমাদের দলে নাম লিখিয়েছেন। আমরাই আসল তৃণমূল। ওরা তো ভেঙেচুরে এখন একবারে ভাঙনের কিনারায় এসে গেছে। আমরা এই মুহূর্তে চাইলে দলের বিধায়কের সংখ্যা ৭৫–এ নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু সবাইকে নিচ্ছি না।’
ঋতব্রত বলেন, ‘উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ শনিবার আমাদের তপসিয়ায় আয়োজিত এক বৈঠকের মাঝে উপস্থিত হন। তবে আমরা তাঁকে বৈঠকে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানাইনি। নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।’
যদিও নির্মল ঘোষ দাবি করেছেন, তাঁকে এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘না, কেউ তাঁকে এই বৈঠকে ডাকেননি।’
তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনে জড়িত ছিলেন তিনি। নির্মল ঘোষ নির্বাচনের পর আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল হঠাৎ তাঁকে দেখা যায় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আয়োজনে এক সভায় প্রবেশের সময়।
বিষয়টি জানার পর ধর্ষণের শিকার চিকিৎসকের মা ও বর্তমানে পানিহাটি বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেন, ‘ওর বিচার হবেই। আমি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের অন্যতম এই মাস্টারমাইন্ড নির্মল ঘোষকে ছাড়ব না। তাঁকে কাঠগড়ায় তুলবই।’
নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার লটারির অর্থ প্রতারণা করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী অবিলম্বে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তারেরও দাবি তুলেছেন। ২০২৪ সালে লটারিতে এক কোটি টাকা জেতেন জয়ন্ত দাস নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, সেই খবর পাওয়ার পর নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ ভয়ভীতি দেখিয়ে লটারির টিকিট হাতিয়ে নেন।
এদিকে শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক সাবেক মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বিদ্রোহীদের দলে যোগ দিয়ে বলেছেন, এখন প্রয়োজন মমতার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া। ওর খামখেয়ালিপনা এবং ভুল সিদ্ধান্তে দলের এই পতন হয়েছে। ভেঙে যাচ্ছে মমতার দলের সাজানো বাগান।