সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ৮ ধাপ নামার পর ভারত এখন ‘সংবাদমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর দেশগুলোর একটি’। এ প্রতিবেদন গত মে মাসে প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিবেদন প্রস্তুত পর্যন্ত ভারতে একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, জেলে রয়েছেন ১৩ জন।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের এই প্রতিবেদনের আধারে লোকসভায় প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মালা রায়, ডিএমকে দলের এ রাজা ও এ গণেশমূর্তি। তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর গত মঙ্গলবার লিখিতভাবে জানান, সরকার ওই সংগঠনের অভিমতের সঙ্গে একমত নয়। দেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান নিয়ে সরকার আদৌ সহমত নয়। কেন নয় সেই ব্যাখ্যায় মন্ত্রী জানান, সমীক্ষার ‘স্যাম্পল সাইজ’ বা নমুনার পরিমাণ অত্যন্ত কম। তা ছাড়া গণতন্ত্রের আধার সম্পর্কে তাদের ধারণাও অত্যন্ত সীমিত। প্রায় নেই বলা যায়। সবচেয়ে বড় কথা, যে পদ্ধতিতে দেশে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে মতামত জাহির করা হচ্ছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ ও অস্বচ্ছ।

অনুরাগ ঠাকুর বলেছেন, সাংবাদিকসহ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের কর্তব্য। সরকার তা পালনও করে।

সাংসদ মালা রায় অন্য এক প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, দেশে মোট কতজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এই তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নেই। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের এখতিয়ারভুক্ত। অভিযুক্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচার রাজ্য সরকারই করে থাকে। এই কাজ কেন্দ্রীয় সরকার করে না। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো’য় সাংবাদিক আটকের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিবেদন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এই মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এডিটরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কাপুর বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে সুখকর নয় এমন কোনো তথ্যই আমাদের সরকার স্বীকার করে না। সত্য এই যে ভারত সরকার গণমাধ্যমকে শত্রু মনে করে। তারা ভাবে, গণমাধ্যমের কাজ শুধুই সরকারের গুণগান গাওয়া, সমালোচনা নয়। রাষ্ট্রের এই বৈরী মনোভাবের জন্য সাংবাদিকেরা ক্রমেই গুটিয়ে যাচ্ছেন, রাজ্য সরকারও অনুপ্রাণিত হচ্ছে কঠোর হতে। পরিস্থিতি আজ এমন যে নিম্ন আদালতে সাংবাদিকেরা সুবিচার পর্যন্ত পাচ্ছেন না। মহম্মদ জুবেরের মতো সাংবাদিককে তাই এত দিন ধরে জেলে থাকতে হচ্ছে।’

তথ্যমন্ত্রীর পেশ করা জবাব জানাচ্ছে, ২০২১-২২ সালে দেশে ৭৮টি ইউটিউব নিউজ চ্যানেল ও তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, তারা ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯(ক) ধারা লঙ্ঘন করেছে। ওই বছরে ৫৬০টি ইউটিউব ওয়েব লিংকও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্র হিসেবে ভারত খুবই ‘কঠিন’ দেশে পরিণত হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে পৃথিবীতে এক নম্বরে রয়েছে নরওয়ে। তারপর ডেনমার্ক, সুইডেন, এস্তোনিয়া ও ফিনল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের স্থান ৪২তম। সবচেয়ে খারাপ দেশ উত্তর কোরিয়া (১৮০তম)। এর আগে রয়েছে ইরিত্রিয়া (১৭৯), ইরান (১৭৮), তুর্কমিনিস্তান (১৭৭), মিয়ানমার (১৭৬) ও চীন (১৭৫)।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন