নতুন তৃণমূলের কমিটি গঠন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে নতুন তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন কমিটি গঠন করলেন পুরোনো তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত নেতারা। বিষয়টি নিয়ে সোমবার পূর্ব কলকাতার নিউ টাউনের একটি বেসরকারি হোটেলে তাঁরা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, নতুন কমিটির সভাপতি হবেন আগের সরকারের মন্ত্রী অরূপ রায়। একই সঙ্গে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, নিউ টাউনের একটি হোটেলে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই একটি ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি পর্ষদে নিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী ও বিধায়ক অরূপ রায়কে। সূত্র আরও দাবি করেছে, এই শিবির একটি প্রস্তাব পাস করে সংগঠন থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
২০২২ সালে তৃণমূলের কর্মসমিতি গঠিত হয়েছিল, তিন বছর পরে তা আবার হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তা না হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে নতুন কর্মসমিতি গঠন করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল। এখন এটাই দেখার যে এই নতুন কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে, দল এবং দলের প্রতীক বজায় রাখার তাগিদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নেতৃত্ব আদালতের দ্বারস্থ হন কি না।
এই বৈঠকে বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতার পাশাপাশি ৬০ থেকে ৭০ জন পৌরসভার সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী জাভেদ খান, অরূপ রায় এবং কলকাতা পুরসভার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সভার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠানস্থলে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি ছিল না।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে বেশ কয়েক পর্যায়ে ধীরে ধীরে ভেঙে ফেলা হয়। একদিকে রাজ্যে বিধানসভায় ৫৮ জন এমএলএ বেরিয়ে আসেন। অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ে লোকসভায় তৃণমূল ছাড়েন ২০ জন এমপি। রাজ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদটি এবং মর্যাদা চায় নতুন তৃণমূল। কিছুদিন টালবাহানার পরে স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে আসা দলের বিরোধী দলনেতা করে দেন। এই সিদ্ধান্তকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু হাইকোর্ট স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপরে কোনো স্থগিতাদেশ দেননি অর্থাৎ আদালত সিদ্ধান্তটি আপাতত মেনে নেন। যদিও জুলাই মাসের শেষে একটি শুনানির আদেশও আদালত দিয়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই নতুন কমিটি গঠন করে তার মাথায় বসিয়ে দেওয়া হলো প্রবীণ সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে বেরিয়ে যাওয়া লোকসভার সদস্যরা যোগ দিয়েছেন ন্যাশনাল সিটিসিডেন্টস পার্টি অব ইন্ডিয়া বলে একটি অজানা দলে। সেই দলের ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে আগামী লোকসভার অধিবেশনে দলটি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের পেশ করা বিভিন্ন বিলে বিজেপির সঙ্গেই থাকবে।