ইডিকে বিপুল ক্ষমতার অধিকারী করা নিয়ে মামলায় সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছেন, ১৭টি বিরোধী দল তা ‘বিপজ্জনক’ মনে করছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায় যাতে ক্ষণজীবী হয়, সে জন্য বিরোধীরা সর্বোচ্চ আদালতে ‘রিভিউ পিটিশন’ দাখিলের ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে। বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতির শরণাপন্নও হতে পারেন।

আর্থিক নয়ছয় প্রতিরোধ আইন বা ‘প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’–এর (পিএমএলএ) সংশোধন ইডিকে প্রভূত ক্ষমতাশালী করে তুলেছে। ইডি সাধারণত অর্থ নয়ছয় ও পাচারসংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করে। ওই সংশোধনের ফলে ইডিকে ‘পিএমএলএ’ মামলায় যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। আইন সংশোধনের ফলে অভিযোগ প্রমাণের দায়ও বর্তেছে অভিযুক্তের ওপর। ওই সংশোধনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আড়াই শতাধিক মামলা হয়েছিল। গত ২৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এম খানবিলকর সেসব আরজি খারিজ করে জানান, পিএমএলএ মামলায় ইডি সব ক্ষমতার অধিকারী। দেশের স্বার্থে তাদের হাতে এমন ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। বিচারপতি এ মন্তব্যও করেন যে অর্থ পাচার দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। কারণ, তাতে সন্ত্রাসবাদীদের হাত শক্ত হয়। ওই রায়ের পরই বিচারপতি খানবিলকর অবসর গ্রহণ করেন।

কেন্দ্রীয় সরকার ‘পিএমএলএ’ মামলায় সংশোধন এনেছিল অর্থ আইনের মাধ্যমে। অর্থ আইনের অন্তর্গত যেকোনো বিল শুধু লোকসভায় পাস করালেই চলে। রাজ্যসভার অনুমোদন প্রয়োজন হয় না। বিরোধীরা বলছে, মূল মামলার রায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গেলে পিএমএলএ সংশোধনের মাধ্যমে ইডিকে দেওয়া অধিকাংশ ক্ষমতা অসাংবিধানিক প্রতিপন্ন হবে। বাতিল হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে বিচারপতি খানবিলকরের রায় অর্থহীন হয়ে পড়বে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন