বাংলাদেশি কি না যাচাইয়ে ‘যন্ত্র’ ব্যবহার, বিতর্কে উত্তর প্রদেশ পুলিশ
বাংলাদেশিদের আটক করতে উত্তর প্রদেশ পুলিশ কি তবে যন্ত্রের সাহায্য নিচ্ছে? এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে, যা রাজধানী দিল্লির লাগোয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজিয়াবাদ থানার একদল পুলিশ কৌসাম্বি এলাকায় এক বস্তিতে গিয়ে বাসিন্দাদের ডেকে ডেকে পরিচয় জানতে চাইছেন। এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে মুঠোফোনের মতো দেখতে একটা যন্ত্র, সেটা বাসিন্দাদের পিঠে ঠেকানো হচ্ছে। তারপর তা দেখে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি বাংলাদেশি কি না।
বস্তিবাসীদের ডেকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘খবরদার মিথ্যা বলবেন না। আমাদের কাছে এমন এক যন্ত্র রয়েছে, যাতে মিথ্যা ধরা পড়ে যায়। এরপরেই দেখা যাচ্ছে, ওই পুলিশ কর্তা একজনের পিঠে ওই যন্ত্র ঠেকালেন। তারপর বললেন, যন্ত্র জানাচ্ছে আপনি বাংলাদেশি। কিন্তু পুলিশের সামনে দাঁড়ানো নারী প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দিতে বলেন, তাঁরা বাংলাদেশি নন, বিহারের আরারিয়ার বাসিন্দা। পুলিশ তা শুনে বলে, যন্ত্র কিন্তু তা বলছে না। বলছে আপনারা বাংলাদেশি।’
অভিযোগ, যে পুলিশ কর্তা বস্তিতে গিয়ে নাগরিকত্ব যাচাই করছিলেন, তাঁর নাম অজয় শর্মা। তাঁদের সঙ্গে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের জওয়ানেরাও ছিলেন। ভিডিওটি গত ২৩ ডিসেম্বর ধারণ করা।
ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা জানতে চান, কোন ধরনের যন্ত্র পুলিশ ব্যবহার করছে, যা পিঠে ঠেকালেই বাংলাদেশি কি না চেনা যায়? এ নিয়ে হাসিঠাট্টা শুরু হতেই জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন, অবৈধ উপায়ে এ রাজ্যে আসা বাংলাদেশিদের খুঁজতে তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশ সে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইছে। এ জন্য কেউ কোনো যন্ত্র ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
নিমিশ পাটিল জানান, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারি মার্কেট অঞ্চলে। সেখানে ২৩ ডিসেম্বর পুলিশ ওই অভিযান চালিয়েছিল। সেটি ছিল বড়দিন ও নতুন বছর শুরুর আগে রুটিন অভিযান। তিনি জানান, ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দিরাপুরম এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে।
সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ভিডিওতে যাঁর পিঠে ওই যন্ত্র ঠেকিয়ে বাংলাদেশি চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেই ব্যক্তির নাম মহম্মদ সাদিক। বয়স ৭৬। তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে ওখানে বাস করছেন। মাছ বিক্রি তাঁর জীবিকা।
সাদিক বলেছেন, ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণসহ সব কাগজপত্র তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখিয়েছেন। বিহারের আরারিয়া থেকে তাঁরা দিল্লি লাগোয়া গাজিয়াবাদে এসে বসবাস করছেন। সব বলা সত্ত্বেও যন্ত্র ঠেকিয়ে তাঁদের বাংলাদেশি প্রমাণ করতে চায় পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা অজয় শর্মা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, এতে অন্যায়ের কিছুই ছিল না। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে মিথ্যা না বলেন, সে জন্য ওটা ছিল কৌশল মাত্র।
পুলিশ কমিশনার রবীন্দ্র গৌড় টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, পুলিশ কাউকে হয়রানি করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।