আজ বিকেল পর্যন্ত যা খবর, তাতে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে চলেছেন শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু। ওড়িশার সাঁওতাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ৬৪ বছর বয়সী এই উপজাতি রাজনীতিক এবং ঝাড়খন্ডের সাবেক রাজ্যপাল অন্তত ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হতে চলেছেন বলে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।

দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিরোধীরা দাঁড় করিয়েছিলেন দেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিজেপির একসময়কার শীর্ষ নেতা যশোবন্ত সিনহাকে। অটল বিহারি বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার এই সাবেক সদস্য পরবর্তীকালে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। বিরোধী সম্মিলিত প্রার্থী হিসেবে যশোবন্ত অবশ্য বিরোধীদের প্রথম পছন্দের ছিলেন না।

প্রথমে শারদ পাওয়ার ও তাঁর পর একে একে ফারুক আবদুল্লাহ ও গোপাল গান্ধী রাজি না হওয়ায় যশোবন্তকে প্রার্থী করা হয়। ভোটের আগের দিন রোববার এক বিবৃতিতে তিনি সবার সমর্থন চান। তিনি বলেন, এই লড়াই কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয়।

লড়াই আদর্শের। যশোবন্ত বলেছিলেন, দেশের সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষার জন্যই তিনি আসরে অবতীর্ণ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী যে দলের, তারা দেশের এই চরিত্র নষ্ট করে কর্তৃত্ববাদী আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে। তারা সংঘাত ও সংঘর্ষের রাজনীতি করছে। তিনি ঐকমত্য ও সহযোগিতার রাজনীতির পক্ষে। যশোবন্তের এই আবেদন সত্ত্বেও গতকাল স্পষ্ট হয়ে গেছে দ্রৌপদীর জয় অবশ্যম্ভাবী। কারণ, এনডিএর শরিক ছাড়াও তিনি পেয়েছেন ওড়িশার বিজু জনতা দল, ঝাড়খন্ডের শাসক দল ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা ও শিবসেনার দুই গোষ্ঠীর সমর্থন। এ ছাড়া ওড়িশা, আসাম, মহারাষ্ট্রসহ বেশ কিছু রাজ্যের কংগ্রেস সদস্যও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুকে ভোট দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচিত সদস্য ছাড়াও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচিত বিধায়কেরা। জম্মু–কাশ্মীর রাজ্য দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর সেখানে এখনো বিধানসভা গঠিত হয়নি। এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বাদ দিয়ে এবার মোট বিধায়কের সংখ্যা ৪ হাজার ১২৩। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আয়তন, বিধায়ক ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে একেকটি ভোটের মূল্য নির্ধারিত হয় ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যদের ভোটমূল্য ৭০৮। কিন্তু রাজ্যওয়ারি বিধায়কদের ভোটমূল্য একেক রকম। যেমন উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের ভোটমূল্য সবচেয়ে বেশি, ২০৮। পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের একেকজনের ভোটমূল্য ১৫১। সবচেয়ে কম ভোটমূল্য সিকিমের। প্রতি বিধায়ক মাত্র ৭।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পালা শেষ হলেই শুরু হবে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। উপরাষ্ট্রপতি পদে শাসকগোষ্ঠী মনোনীত করেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সঙ্গে নিয়ে আজ তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিরোধী প্রার্থী সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেত্রী ৮০ বছর বয়সী মার্গারেট আলভা। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ৬ আগস্ট।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন