উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা আবারও কি টুকরা হচ্ছে, বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি না দিতে স্পিকারকে চিঠি
লোকসভা সদস্যদের একটি অংশ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে—সম্প্রতি এমন খবরের মধ্যে স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠি লিখেছেন শিবসেনার (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। চিঠিতে তিনি স্পিকারের কাছে সংসদীয় কোনো দলের বিদ্রোহী আইনপ্রণেতাদের স্বীকৃতি না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
উদ্ধবের যুক্তি, সংবিধান এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের ‘বিভাজনকে’ আইনগত স্বীকৃতি দেয় না।
এ পদক্ষেপকে শিবসেনার (ইউবিটি) পক্ষ থেকে আগাম সতর্কতামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্ভবত দলটি ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের মতো বিদ্রোহের পুনরাবৃত্তি আটকাতে আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে চাইছে, যাতে বিদ্রোহী আইনপ্রণেতারা স্পিকারের কাছে স্বীকৃতি চাওয়ার আগেই তাঁদের পথ রুদ্ধ করা যায়।
বাস্তবে শুধু সংখ্যার জোরে কোনো আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে নিজেদের মূল দল থেকে আলাদা করে স্বাধীন কর্তৃত্ব দাবি করতে পারেন না।
এ পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন বিদ্রোহী আইনপ্রণেতারা দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং শিগগিরই লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিবসেনার (ইউবিটি) সংসদীয় দলের নেতা অরবিন্দ সাওয়ান্ত বলেছেন, এমন খবর সামনে এসেছে যে দলের প্রতীকে নির্বাচিত কয়েকজন আইনপ্রণেতা হয় স্পিকারের কাছে গিয়ে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইছেন অথবা অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হতে এরই মধ্যে স্পিকারের কাছে আবেদন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অরবিন্দ সাওয়ান্ত বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপের (আইনপ্রণেতাদের দল ছেড়ে বেরিয়া যাওয়া) কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি এখন আর নেই। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) একটি রাজনৈতিক দল এবং আইন অনুযায়ী সেটি এখনো একটি দল হিসেবেই বিদ্যমান।’
এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন শিবসেনা (ইউবিটি)-তে আবার ভাঙন ঘটানোর চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ছে। প্রায় চার বছর আগে ২০২২ সালের জুন মাসে একনাথ শিন্ডে মহারাষ্ট্র বিধানসভার একদল আইনপ্রণেতাকে নিয়ে দল থেকে বেরিয়ে যান। ফলে অবিভক্ত শিবসেনায় ভাঙন দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন শিন্ডে গোষ্ঠীকেই ‘আসল শিবসেনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এদিকে, দলটি তাদের আইনপ্রণেতাদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
শুধু সংখ্যাই গুরুত্বপূর্ণ নয়
অরবিন্দ সাওয়ান্ত যুক্তি দেন, ২০০৩ সালের ৯১তম সাংবিধানিক সংশোধনের পর ‘অ্যান্টি ডিফেকশন ল’ আর কোনো রাজনৈতিক দলের বিভাজনকে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে আগে আইনি যে সুরক্ষা ছিল, তা আর কার্যকর নেই।
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা যুক্তি দেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা তাঁদের বৈধতা মূল রাজনৈতিক দল থেকেই পান। তাই আলাদা একটি সংসদীয় গোষ্ঠী গঠন করলেই তাঁরা একক বা স্বতন্ত্র আরেকটি রাজনৈতিক দলের বৈধতার দাবি তুলতে পারেন না।
২০২২ সালের জুনে একনাথ শিন্ডে মহারাষ্ট্র বিধানসভার একদল আইনপ্রণেতা নিয়ে দল থেকে বেরিয়ে যান। ফলে অবিভক্ত শিবসেনায় ভাঙন দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন শিন্ডে গোষ্ঠীকেই ‘আসল শিবসেনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০২৩ সালের মহারাষ্ট্র রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের কথা উল্লেখ করে সাওয়ান্ত বলেন, আদালত স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক দলকে মুষ্টিমেয় আইনপ্রণেতার গঠন করা দলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
এই নেতা আরও বলেন, ‘আইনপ্রণেতা দলের এমন কোনো স্বাধীন ক্ষমতার কোনো উৎস নেই, যার বলে তাঁরা রাজনৈতিক দল থেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারে।’
সাওয়ান্ত যুক্তি দেন, বাস্তবে শুধু সংখ্যার জোরে আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে নিজেদের মূল দল থেকে আলাদা করে স্বাধীন কর্তৃত্ব দাবি করতে পারেন না।
স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘জনসমক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভুল একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে—যেখানে শুধু সংখ্যাগত শর্ত পূরণ হলেই সেটি যথেষ্ট বলে ধরা হচ্ছে। এটি সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যার পরিপন্থী।’
আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাওয়ান্ত চিঠিতে আরও বলেন, দশম তফসিল অনুযায়ী ছাড় বা সুরক্ষা তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন মূল রাজনৈতিক দল নিজেই অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু আইনপ্রণেতারা নিজেদের ইচ্ছায় আলাদা হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে এ সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না।