পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি, বামফ্রন্ট ও এসইউসিআই। রোববার ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই সোমবার বিকেলে দলগুলো তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা সামনে আনে। রাজ্যের ২৯৪টি আসনে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার প্রকাশিত তালিকায় বিজেপি ১৪৪ জন, বামফ্রন্ট ১৯২ জন এবং এসইউসিআই ২৩০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এদিন প্রার্থী তালিকা না দিলেও জানা গেছে, মঙ্গলবার তারা নাম ঘোষণা করবে।
বামফ্রন্টের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, দীপ্সিতা ধর, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্ত, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাবিনা ইয়াসমীন।
অন্যদিকে, বিজেপির উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শংকর ঘোষ, সজল ঘোষ ও সংগীতশিল্পী অসীম সরকার।
মমতার বিরুদ্ধে দুই আসনে লড়বেন শুভেন্দু
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—এই দুটি আসনে লড়বেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন তিনি। পরে ভবানীপুর আসনে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ টিকিয়ে রাখেন মমতা।
এবার শুভেন্দু ঘোষণা দিয়েছেন, নন্দীগ্রামের পাশাপাশি তিনি মমতার বর্তমান আসন ভবানীপুরেও লড়বেন। তাঁর লক্ষ্য একটাই—মমতাকে হারানো।
গ্যাস-সংকটে মমতার প্রতিবাদ মিছিল
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিন দলের প্রার্থী ঘোষণার মধ্যেই রান্নার গ্যাসের দুষ্প্রাপ্যতা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করে কলেজ স্কয়ার থেকে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং পর্যন্ত এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি।
মিছিল শেষে ডরিনা ক্রসিংয়ের প্রতিবাদ সভায় মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যতই করো হামলা, পরিবর্তন হবে না বাংলা।’ এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিই থাকবেন উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘গ্যাসের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে মানুষকে এখন বুকিংয়ের আশায় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। বুকিংও পাওয়া যাচ্ছে না। সময় আসছে, এই লাইনের কারণেই বিজেপি রাজ্যপাট থেকে বেলাইন হয়ে যাবে। নির্বাচনে তৃণমূল ছক্কা মেরে বিজেপিকে অক্কা পাইয়ে দেবে।’
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে গভীর রাতে বদলি করার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।