আশ্রয়দাতার নেতৃত্বে র্যাগিংয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু
পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদ্বীপ কুন্ডুর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ।
মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। একই দাবিতে আজ শনিবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে বিজেপি।
নদীয়ার ছেলে স্বপদ্বীপ এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। হোস্টেলে সিট পাননি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের হোস্টেলের ৬৮ নম্বর কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ব্যবস্থাটা করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সৌরভ চৌধুরী। তিনি গত বছর অঙ্কে এমএসসি পাস করলেও হোস্টেলেই থেকে যান।
স্বপ্নদ্বীপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পর মাত্র দুদিন ক্লাস করেছিলেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার রাতে স্বপ্নদ্বীপ র্যাগিংয়ের শিকার হন। সৌরভের নেতৃত্বে একদল ছাত্র তাঁকে র্যাগিং করেন। তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অশালীন কাজ করেন ওই ছাত্ররা। পরে তাঁকে তিনতলার ব্যালকনি থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।
স্বপ্নদ্বীপের বাবা রামপ্রসাদ কুন্ডু অভিযোগ তোলেন, সৌরভ চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল ছাত্র র্যাগিং করে তাঁর ছেলেকে তিনতলার ব্যালকনি থেকে ফেলে হত্যা করেছেন।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে সৌরভকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আজ তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। আদালত ২২ আগস্ট পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রাক্তন এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এমন অভিযোগও ওঠে, এই র্যাগিংয়ের সময় ওই ছাত্ররা একটি মেয়েকে তাঁর সামনে এনে প্রেম নিবেদনের চাপ দিলেও তাতে সায় দেননি স্বপ্নদ্বীপ।
স্বপ্নদ্বীপের বাবা রামপ্রসাদ কুন্ডুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, এই হত্যার বিচার হবে। দোষীদের রেহাই দেওয়া হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।