তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গেই থাকছেন স্ত্রী সংগীতা, বিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ছবি: এএনআই

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয় এবং তাঁর স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণলিঙ্গমের বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি আজ শুক্রবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এতে মামলাটি মুলতবি হয়ে গেছে। সংগীতা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে তাঁর আবেদন জমা দেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংগীতা তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপট্টুর একটি আদালতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন দাখিল করেন।

চলতি বছরে বিজয় ও সংগীতার বৈবাহিক বিরোধের শুনানি বেশ কয়েকবার মুলতবি করা হয়। গত ১৫ জুন সংগীতা তাঁর আবেদন প্রত্যাহার করার ইচ্ছা জানালে আদালত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করে দেন। ওই শুনানির সময়ও তিনি ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের কথা আদালতকে জানান। পরবর্তী সময়ে আদালত ৭ আগস্ট (আজ শুক্রবার) আরও শুনানির জন্য ধার্য করেছিলেন।

গত মাসে বিজয় বা সংগীতা—কেউ–ই উপস্থিত না হওয়ায় পারিবারিক আদালত শুনানি পিছিয়ে দেন। এর আগের কয়েকবারও তাঁরা দুজনই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবীরা উপস্থিত হয়ে আদালতকে জানান, সশরীর উপস্থিত হতে তাঁদের সমস্যা হচ্ছিল।

সংগীতা বিজয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে রাজ্যের চেঙ্গালপট্টুর পারিবারিক আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। আবেদনে তিনি তাঁদের মধ্যকার অমীমাংসিত মতপার্থক্যকে বিবাহবিচ্ছেদের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্থায়ী খোরপোশ চেয়েছিলেন এবং চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাইয়ে তাদের দাম্পত্যকালে যৌথ বাড়িতে থাকার অনুমতি চেয়েছিলেন।

বিজয় ও সংগীতার সম্পর্ক প্রায় তিন দশকের। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু রীতিতে তাঁদের আন্তধর্মীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়।

২০০০ সালের ২৬ আগস্ট তাদের প্রথম ছেলেসন্তান জন্ম নেয় এবং ২০০৫ সালে তাঁদের এক মেয়েসন্তান হয়।

বিজয়–সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অনুষ্ঠানে সংগীতার অনুপস্থিতির পর ২০২৩ সালে প্রথম তাঁদের দাম্পত্য বিরোধ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য সে সময় ওই গুঞ্জন দুজনই নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালে টিভিকে আয়োজিত দলের দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনসহ প্রধান প্রধান রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সংগীতা উপস্থিত না থাকায় আবার গুঞ্জন সামনে আসে।

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগামের (এআইএডিএমকে) মতো বড় দলের কয়েক দশকের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটায় বিজয়ের দল।

দলটি পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট), ভিথুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) সমর্থনে সরকার গঠন করে। ফলে কয়েক দশকের মধ্যে তামিলনাড়ুতে প্রথম জোট সরকার গঠিত হয়।