কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহতদের তিনজন পশ্চিমবঙ্গের

স্ত্রীর সঙ্গে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত বিতান অধিকারীছবি: প্রথম আলো

ভারতের জন্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরণে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের তিন পর্যটক রয়েছেন। এ ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহত ব্যক্তিরা হলেন কলকাতার বৈষ্ণবঘাটা পাটুলির বিতান অধিকারী, বেহালার সখেরবাজারের সমীর গুহ এবং পুরুলিয়ার ঝালদার বাঘমুণ্ডি এলাকার মনীশ রঞ্জন মিশ্র।

কাশ্মীরে ছুটি কাটাতে গিয়েছিল এই তিনজন ও তাঁদের পরিবার। তবে বন্দুকধারীদের নির্মমতায় ঝাঁঝরা হয়ে যায় তাঁদের দেহ।

বিতান অধিকারী ছিলেন আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএসের ফ্লোরিডা শাখায় কর্মরত। স্ত্রী সোহিনী ও একমাত্র সন্তানের এখনো ভিসা না হওয়ায় বিতান যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে বেড়াতে এসে পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে কাশ্মীরে যান। কিন্তু সে ছুটিই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়।

অন্যদিকে সমীর গুহ ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। স্ত্রী শবরী ও একমাত্র কন্যাকে নিয়ে কাশ্মীর ভ্রমণে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

সমীর গুহের বাড়ি
ছবি: প্রথম আলো

মনীশ রঞ্জন মিশ্র ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা। পুরুলিয়ার ঝালদার বাঘমুণ্ডি এলাকার বাসিন্দা মনীশ কিছুদিন আগে বদলি হয়েছিলেন হায়দরাবাদে। ছুটিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে অযোধ্যা ও হরিদ্বার হয়ে গিয়েছিলেন পেহেলগামে। সেখান থেকে যাওয়ার কথা ছিল বৈষ্ণদেবী দর্শনে।

আজ বুধবার রাতে নিহত তিন পর্যটকের মরদেহ কলকাতায় আনা হচ্ছে। দুজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মনীশ রঞ্জনের মরদেহ পাঠানো হবে ঝালদার বাড়িতে।

নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে এখন শুধুই শোকের মাতম। প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন জানিয়েছেন, ‘এটা আমাদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ, এত আনন্দ উৎসবে প্রস্তুতির মধ্যে এমন দুঃসংবাদ, এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত।’