এর আগে আজ সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ সামাজিকমাধ্যমে লেখেন, ‘দলের সব পদ এবং মন্ত্রিত্ব থেকে অবিলম্বে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরানো হোক, বহিষ্কার করা হোক। আমার এই বিবৃতি যদি ভুল হয়, তাহলে আমায় দলের সব পদ থেকে সরানোর অধিকার দলের রয়েছে। আমি তৃণমূলের একজন সৈনিক হিসেবে আমার কাজ করে যাব।’ এর কিছুক্ষণ পর তিনি টুইটার থেকে মন্তব্যটি তুলে নেন এবং লেখেন, ‘আমার আগের টুইটে আমি আমার বক্তব্য জানিয়েছিলাম এবং দল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানা গিয়েছে। আমাকেও সেখানে ডাকা হয়েছে। আজ বিকেল পাঁচটায় বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি আমার আগের টুইটটি তাই মুছে দিলাম।’

এখন মনে করা হচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচিত অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ গত কয়েক দিনে উদ্ধার হওয়ার কারণে তাঁকে দল এবং মন্ত্রিত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরানো এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তকারী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গতকাল বুধবার উত্তর কলকাতার একটি ফ্ল্যাট থেকে ২৭ দশমিক ৯০ কোটি ভারতীয় রুপি এবং ৪ দশমিক ৩১ কোটি টাকার সোনা, সম্পত্তি–সংক্রান্ত নথিপত্র এবং বাতিল রুপির বান্ডিল উদ্ধার করে। ফ্ল্যাটটি অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বলে ইডি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় প্রচারমাধ্যম।

এর আগে তাঁর দক্ষিণ কলকাতার একটি ফ্ল্যাট থেকে ২০ কোটির বেশি ভারতীয় রুপি উদ্ধার করে ইডি। ইতিমধ্যে অর্পিতা ইডিকে জানিয়েছেন, তিনি জানতেন না যে তাঁর ফ্ল্যাটে এত অর্থ রয়েছে এবং এর পুরোটাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।

বর্তমানে শিল্প বাণিজ্য এবং তথ্য–প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায় অতীতে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। সে সময়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবল দুর্নীতি হয়েছিল বলে অভিযোগ। মনে করা হচ্ছে, এ অর্থ সেই নিয়োগ-দুর্নীতি থেকেই এসেছে। এ টাকার পরিমাণ এতটা বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং প্রায়ই নতুন ফ্ল্যাট এবং সেখানে রাখা অর্থের খবর টেলিভিশনে প্রচার হওয়ার কারণে কিছুটা হলেও আতঙ্কিত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এখনো তাদের প্রবল জনসমর্থন রয়েছে এবং ২০২১ সালে বড় ব্যবধানে বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর তৃণমূল কোনো উপনির্বাচনই হারেনি, তবু শীর্ষ নেতৃত্ব স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন।

গতকাল বুধবারও তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘দোষ করলে সাজা পেতেই হবে।’ তবে তিনি এ-ও বলেন, রাজ্য চালাতে গেলে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েই থাকে, তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত ভুল করেন, তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক স্তরে এখন যেটা প্রশ্ন সেটা হলো, তৃণমূল কংগ্রেস পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করলেও গত কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গের এবং ভারতের প্রচারমাধ্যমে যে ছবি দেখানো হলো, তা কি দেড় বছরের মধ্যে ভোটাররা ভুলতে পারবেন? কারণ, দেড় বছর পর ভারতের লোকসভা নির্বাচন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এমন কিছু করতে পারবেন, যাতে আক্ষরিক অর্থেই এই পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতি ভুলে গিয়ে মানুষ তাঁদের আবার ভোট দেবেন? ভোট যত এগিয়ে আসবে, বিষয়টি তত পরিষ্কার হবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন