রাহুলের জেরা পর্বের প্রতিদিন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। সোনিয়ার হাজিরা উপলক্ষেও আজ দিল্লিতে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা।

বিক্ষোভকারীদের সামলাতে পুলিশ ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছিল। দু-একটি স্থানে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। আটক করা হয় বেশ কয়েকজন নেতাকেও। ইডি দপ্তরে যাওয়ার রাস্তাগুলোয় রাখা হয়েছিল দিল্লি পুলিশের দাঙ্গা রোধকারী দলকে। আকবর রোড দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। অবশ্য বড় ধরনের অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।

সোনিয়াকে জেরার দায়িত্ব দেওয়া হয় ইডির সহকারী পরিচালক মোনিকা শর্মাকে। তাঁকে সাহায্য করেন আরও চারজন কর্মকর্তা। সংস্থার পক্ষ থেকে সোনিয়াকে বলা হয়, জেরা চলাকালে ক্লান্তি বোধ করলে তিনি যেন সঙ্গে সঙ্গে তা জানান। সোনিয়ার বয়স ৭৫। তিনি সারভাইক্যাল ক্যানসারের রোগী। সে জন্যই এ সাবধানতা।

সংবাদ সংস্থাগুলো বলছে, সোনিয়ার পক্ষে অনুরোধ জানানো হয়েছিল জেরা চলাকালে প্রিয়াঙ্কাকে যেন ইডি দপ্তরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। কারণ, হঠাৎ শরীর খারাপ হলে কোন ওষুধ দিতে হবে, তা প্রিয়াঙ্কার জানা। এ ছাড়া আরও বলা হয়েছিল, আলো–বাতাসযুক্ত প্রশস্ত কামরায় যেন সোনিয়াকে জেরা করা হয়। জেরায় অংশগ্রহণকারীদের আগেই যেন কোভিড পরীক্ষা করানো হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে কংগ্রেস সংবাদ সম্মেলন করে বলে, মোদি সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে। সে জন্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের এ অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, ৭৫ বছরের অসুস্থ সোনিয়াকে ইডি তাঁর বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারত। তা না করে ডেকে পাঠিয়ে সরকার ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিচ্ছে।

সংসদ ভবনে কংগ্রেসের উদ্যোগে ১৩টি বিরোধী দলের নেতারা এক বৈঠকে সরকারের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ’ করার মানসিকতার নিন্দা করেন। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধে সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সংস্থাগুলো দিয়ে তাদের ওপর অবিরাম চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে রাজ্যে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে এ কাজে সরকার বিশেষভাবে ব্যবহার করছে ইডি, সিবিআইয়ের মতো সংস্থাকে। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন যোগদান করে তেলেঙ্গানার শাসক দল টিআরএস। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী দল, আম আদমি পার্টির কেউ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

এ মামলায় সোনিয়া-রাহুলদের ইডি আগে একবার ‘ক্লিনচিট’ দিয়েছিল। ইডি মামলাটি বন্ধও করে দিয়েছিল। ইডির তৎকালীন যুগ্ম অধিকর্তা রাজন কাটোচ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তাঁর প্রতিবেদনে বলেছিলেন, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় বেআইনি অর্থ লেনদেনের সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই মামলার তদন্ত নতুনভাবে শুরু করা সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণ বলে কংগ্রেসের অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে কংগ্রেস সদস্যরা এ জন্য বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের হাতে ‘ইডির অপব্যবহার বন্ধ হোক’ লেখা পোস্টার ছিল।

অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল) কোম্পানি ছিল ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকার প্রকাশক। ১৯৩৬ সালে জওহরলাল নেহরু এ পত্রিকা প্রকাশ করেন।

তৎকালীন কংগ্রেস নেতারাই ছিলেন এই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার। পরে কোম্পানিটির শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করে। কিন্তু ২০০৮ সালে ওই সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে পত্রিকাটির পুনরুজ্জীবনে কংগ্রেস তার দলীয় তহবিল থেকে ৯০ কোটি টাকা এজেএলকে বিনা সুদে ঋণ দেয়। শেষ পর্যন্ত ইয়ং ইন্ডিয়া লিমিটেড নামে অন্য একটি কোম্পানি এজেএল অধিগ্রহণ করে নেয়। নতুন এ কোম্পানির ৭৬ শতাংশ শেয়ার সোনিয়া ও রাহুলের। বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়াম স্বামী কোম্পানির এ হাতবদলের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, কোম্পানি অধিগ্রহণের মধ্য দিয়ে গান্ধী পরিবার ন্যাশনাল হেরাল্ড-এর দেশজোড়া সম্পত্তি দখল করেছেন। স্বামীর অভিযোগ, এ সম্পত্তির পরিমাণ অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন