তামিলনাড়ুতে থালাপতি বিজয়কে সমর্থন জানাতে গিয়ে কি এআইএডিএমকে ভেঙে যাচ্ছে
ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় নামে পরিচিত চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়ের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটল। আজ মঙ্গলবার এআইএডিএমকের ৩০ জন বিধায়ক নতুন সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন। দলটির বিক্ষুব্ধ অংশের নেতা সি ভি সম্মুগম চেন্নাইয়ে গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরা নতুন সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন সরকারে যোগ দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
আগামীকাল বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে আস্থা ভোট নিতে হবে। তার আগে এআইএডিএমকের ভাঙন ও বিক্ষুব্ধ অংশের সমর্থনের সিদ্ধান্ত বিজয়কে স্বস্তি দেবে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ জনের সমর্থন। বিজয়ের পক্ষে সেখানে রয়েছেন মাত্র ১২০ জন। এ পরিস্থিতিতে ৩০ জন এআইএডিএমকে সদস্যের সমর্থনের অর্থ আগামী দিনে সরকারের স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।
সম্মুগম ও এই অংশের আরেক শীর্ষ নেতা এস পি ভেলুমনি বলেন, তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ই কে পালানিস্বামীর (ইপিএস) হঠকারিতার কারণে। তাঁদের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনে কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইপিএস চিরশত্রু ডিএমকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এটা তাঁরা হতে দিতে পারেন না। কারণ, ডিএমকে তাঁদের রাজনৈতিক শত্রু। সেই কারণে বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা টিভিকে সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিধানসভায় ৫টি আসন জেতা কংগ্রেস ও ২টি করে আসন জেতা সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে, আইইউএমএল আগেই টিভিকে সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেসসহ অন্যরাও সরকারের শামিল হবে। এবার যোগ দেবে সম্মুগম–ভেলুমনির অনুগামীরাও।
এই রাজনৈতিক সমীকরণ রাজ্যে নতুন মেরুকরণের রাস্তাও খুলে দিতে পারে।
পাঁচ দশকের শত্রুতা সত্ত্বেও ডিএমকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এআইএডিএমকে নেতা ইপিএস সরকার গড়তে আগ্রহী হয়েছিলেন। মতবিরোধের ফলে বিরোধীরা দলত্যাগ করায় ডিএমকের সঙ্গে জোট বাঁধতে ইপিএসের এখন আর কোনো বাধা থাকছে না। কংগ্রেস তামিলনাড়ুতে ৩০ বছর ধরে ডিএমকের জোটসঙ্গী।
বিজেপিকে রুখতে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে বৃহত্তর স্বার্থে তারা টিভিকেকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কংগ্রেসের প্রতি ডিএমকে রুষ্ট। বস্তুত এ মুহূর্তে রাজ্যে এম কে স্টালিন ও ইপিএস দুজনেই বন্ধুহীন। রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে বিজেপি এ সুযোগে ডিএমকের কাছে আসতে চাইছে।
এআইএডিএমকের জোটসঙ্গী বিজেপি মনে করছে, ডিএমকের সঙ্গে হাত মেলালে সংসদে এনডিএ আরও শক্তি বৃদ্ধি করবে। লোকসভায় ডিএমকের সদস্যসংখ্যা ২২। এত দিন তাঁরা বিজেপির বিরোধিতা করেছেন। নারী সংরক্ষণ বিল পাস হতে দেননি।
এটা নিশ্চিত, জোসেফ বিজয়ের দল টিভিকের উত্থান আগামী দিনে তামিলনাড়ুর জোট রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে।
কেরালায় কংগ্রেসের জট এখনো কাটেনি
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের সমস্যা মিটলেও কেরালায় এখনো কংগ্রেস ঠিক করে উঠতে পারেনি, কাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত কেরালা বিধানসভার আয়ু। তার মধ্যে নতুন সরকারকে শপথ নিতে হবে। কংগ্রেস নিরঙ্কুশ জয় পেলেও এখনো মুখ্যমন্ত্রিত্ব ঠিক করে উঠতে পারল না। আলোচনার পর আলোচনা হয়েই চলেছে।
কেরালায় কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদার তিনজন। বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন, সাবেক প্রদেশ সভাপতি রমেশ চেন্নিথালা ও এআইসিসির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। তিনজনের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ চেন্নিথালা। কিন্তু সবচেয়ে কর্মঠ সতীশন।
বিরোধী নেতার দায়িত্ব পাঁচ বছর ধরে সতীশনর খুবই দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তাও প্রবল। রাজ্যে কংগ্রেসের সমর্থক আইইউএমএলও (মুসলিম লিগ) সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চান। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে সেই বার্তাও তাঁরা দিয়েছেন। এটা কংগ্রেস নেতৃত্বকে চিন্তায় ফেলেছে। কারণ, ওয়েনাডে লোকসভা আসনে জেতার জন্য কংগ্রেসকে মুসলিম লিগের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তবে বেণুগোপাল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সবচেয়ে আস্থাভাজন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনেক দিন ধরেই তিনি রাহুল গান্ধীর কাছে থেকে কাজও করে আসছেন। রাজ্যের অধিকাংশ বিধায়কও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত যা খবর, তাতে কে সি বেণুগোপালের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও তিন দিন ধরে বিষয়টি অমীমাংসিত। অমীমাংসিত থাকার একটা বড় কারণ, বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে তাঁর জায়গায় কাকে আনা হবে, সেই বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া।
এই দোদুল্যমান অবস্থার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের সমালোচনাও করতে ছাড়েননি। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, কংগ্রেস নিজেদের নেতাদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করে। কেরালায়ও কারও না কারও সঙ্গে তা করা হবে। রাজ্যে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিও কটাক্ষ করে বলেছেন, এত দিন কংগ্রেস ঐক্যের মুখোশ পরে ছিল। জেতার সঙ্গে সঙ্গেই সেই মুখোশ খুলে গেছে। অনৈক্য ফুটে উঠেছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব আরও আলোচনার পক্ষপাতী। সে জন্য আজ মঙ্গলবার রাজ্যের সাবেক সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সভাপতিদের দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আজই তাঁদের সঙ্গে আলোচনা সেরে ফেলা হবে। দলের খবর, আগামীকাল বুধবার বা পরদিন বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হবে।