মৃত ভেবেছিলেন স্বজনেরা, ২৯ বছর পর বাড়ি ফিরলেন বৃদ্ধ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে কর্মকর্তারা ‘এনুমারেশন ফরম’ বিতরণ করছেনফাইল ছবি: এএফপি

তিন দশক ধরে নিখোঁজ ৭৯ বছর বয়সী শরিফ আহমেদ। পরিবারের সদস্যদের ধারণা ছিল, অনেক আগেই তিনি মারা গেছেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এত বছর পর পৈতৃক ভিটামাটি ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার খাতাউলিতেতে ফিরে আসেন তিনি।

যদিও শরিফ আহমেদের এই ফিরে আসা স্থায়ী ছিল না। তিনি অনেক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন। সেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তিনি মুজাফফরনগরে পৈতৃক বাড়িতে আসেন।

শরিফ আহমেদের পরিবার জানায়, ১৯৯৭ সালে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমান। এরপর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ তিন দশক পর গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি হঠাৎ পৈতৃক বাড়িতে এসে হাজির হন।

শরিফ আহমেদের ভাতিজা ওয়াসিম আহমেদ ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর তাঁকে খুঁজে বের করার অনেক চেষ্টা করেছি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর দেওয়া ঠিকানায় খোঁজও নিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। কয়েক দশক ধরে কোনো যোগাযোগ না থাকায় তাঁর চার মেয়ে এবং পরিবারের সবাই ধরে নিয়েছিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই।’

শরিফ আহমেদ বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর কার্যক্রম চলছে। এই সরকারি কাজের জন্য তাঁর জন্মস্থানের কিছু জরুরি নথিপত্রের প্রয়োজন পড়ে। মূলত এই আইনি বাধ্যবাধকতাই তাঁকে দীর্ঘ ২৯ বছর পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য করেছে।

বাড়ি ফিরে শরিফ জানতে পারেন, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর বাবা, ভাইসহ পরিবারের অনেক নিকটাত্মীয় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। প্রিয়জনদের হারানোর খবরে তিনি ব্যথিত হলেও জীবিত মেয়েদের সঙ্গে দেখা হওয়াটা ছিল এক অন্য রকম অনুভূতি।

ওয়াসিম বলেন, ‘এত বছর পর তাঁকে (শরিফ আহমেদ) জীবিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া আমাদের সবার জন্য ছিল অত্যন্ত আবেগঘন একটি অভিজ্ঞতা। পুরো পরিবারে এখন আনন্দের বন্যা বইছে।’

সংক্ষিপ্ত এই সফর শেষে শরিফ আহমেদ আবার পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় ফিরে গেছেন। সেখানেই তিনি বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং ভোটার তালিকার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।