মমতার বাসভবনে সিআইডির তল্লাশি
বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন এবং তাঁর উত্তরসূরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে তল্লাশি চালিয়েছে সিআইডি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এই তল্লাশি চলে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩০ সদস্যের একটি দল এই অভিযানে অংশ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই পদের জন্য প্রবীণ বিধায়ক শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। তবে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া সেই আবেদনপত্রে বেশ কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে মামলা করলে তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সফল নেত্রী থেকে মমতার এই কোণঠাসা হয়ে পড়ার পেছনে দলের ভেতরের চরম অসন্তোষই দায়ী।
গতকাল বিকেলে কালীঘাটে মমতার বাসভবনসংলগ্ন দলীয় দপ্তরে সিআইডি সদস্যরা ঢুকতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। তৃণমূল নেতা শুভাশীষ চক্রবর্তী তাঁদের পথরোধ করার চেষ্টা করেন। তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অনেকটা জোর করেই দপ্তরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন। একই সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরেও সাত সিআইডি কর্মকর্তা তল্লাশি চালান। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অবস্থায় নিজের গড়া দলেই মমতা যে এতটা কোণঠাসা হতে পারেন, তা এক মাস আগেও অকল্পনীয় ছিল।
এই জালিয়াতি মামলায় গতকাল বিকেল পাঁচটার মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডির প্রধান কার্যালয় ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি তা এড়িয়ে গেছেন। এ নিয়ে টানা তিনবার সিআইডির সমন উপেক্ষা করলেন তিনি।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসন পেয়ে বিপুল জয় পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের টালমাটাল দশা শুরু হয়। মাত্র ৮০টি আসন পাওয়া তৃণমূল এখন আক্ষরিক অর্থেই অস্তিত্বের সংকটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা ১৫ বছর রাজত্ব করার পর এখন নিজ দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন বলে মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা এবং বিধায়কদের প্রকাশ্য বিদ্রোহ এখন মমতার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।