কলকাতার মুসলিম এলাকায় জমজমাট ইফতারির বাজার
পবিত্র রমজান মাস চলছে। রোজা ঘিরে এখন কলকাতায় বিশেষ করে মুসলিম এলাকায় ইফতারির বাজার জমে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী নানা বাহারি খাবার আর ফলমূল থাকছে কলকাতার ইফতারির বাজারে।
কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বরাবরই ইফতারির বাজার জমজমাট থাকে। তবে দুই বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে ভিসা ইস্যু এক রকম বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় পর্যটক আসা একদম কমে গেছে। এতে কলকাতা ইফতারির বাজারে কিছুটা ভাটার টান চলছে।
অবশ্য কলকাতার মুসলিম এলাকার ব্যবসায়ীরা আশায় আছেন, এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পার্ক সার্কাস এলাকার ইফতারির দোকানদার আফতাব আহমেদ বলেছেন, এটা সাময়িক। বাংলাদেশি পর্যটকদের আসা শুরু হলে আবার ভিড় জমবে কলকাতার ইফতারির বাজারে।
এখন মেডিক্যাল ভিসায় আসা হাতেগোনা কিছু পর্যটকের দেখা মিলছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিউমার্কেটে এক বাংলাদেশি পর্যটক আশা প্রকাশ করে বলছিলেন, ভিসা সমস্যা অচিরেই কেটে যাবে। আবার চলবে দুই দেশের মধ্যে ট্রেন ও বাস পরিষেবা। ফিরে আসবে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুদিন।
তবে কলকাতার বাংলাদেশি ক্রেতাদের পছন্দের জায়গা হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। প্রতিবছরই বহু বাংলাদেশি ঈদের কেনাকাটা করতে কলকাতায় আসেন। থাকেন কলকাতার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে। কলকাতার ইফতারির বাজার থেকে নানা ইফতারি কেনেন। অনেকে বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে ইফতার করেন। বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় ওইসব এলাকায় ইফতারির বাজারের জৌলুশ অনেকটা কমে গেছে।
কলকাতার নিউমার্কেট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, এসএন ব্যানার্জি রোড, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, বড়বাজার—এসব এলাকায় পবিত্র রমজানে ইফতারির বাজার জমজমাট থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। নিউমার্কেট, জাকারিয়া স্ট্রিটের নাখোদা মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজার, ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজার আর জাকারিয়া স্ট্রিট, পার্ক সার্কাসের ইফতারির বাজার বেশ জমজমাট। গ্রাহকেরা কিনে নিচ্ছেন হরেক রকম ইফতারি।
ইফতারির বাজারে ব্যবসায়ীরা ফলমূল থেকে মাংসের নানা পদ, পেঁয়াজু, জিলাপিসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়েছেন। এখানে মিলছে ইফতারির নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার। বাড়িতে রান্নার ঝামেলা না করে অনেকেই কিনে নিচ্ছেন বাজার থেকে ইফতারির নানা পদ।
সবকিছুর পরও বাংলাদেশি পর্যটকদের নিয়ে আফসোসটা রয়েই যাচ্ছে কলকাতার ব্যবসায়ীদের। ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজারের ব্যবসায়ী মুক্তার খান বলছিলেন, ‘এখন বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠন হয়েছে। আমরা আশা করি, এই সরকারের আমলে ফের কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে। ইফতারির বাজার জমজমাট হবে।’
নিউমার্কেটের ফুটপাতের ব্যবসায়ী আজাদ বলেছেন, ‘আমরা নতুন করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছি। মনে করছি, আবার জমজমাট হবে কলকাতার ঈদ ও ইফতারির বাজার।’