আদালতের রায়ের পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ কার্যকর

হরিশ রানার শয্যাপাশে বাবাছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকার পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বা ‘নিষ্কৃতি মৃত্যুর’ (প্যাসিভ ইউথানেশিয়া) অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস) তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হরিশের মা–বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে তাঁর ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ অনুমতি দেন। মৃত্যু কার্যকরের জন্য ১৪ মার্চ ৩১ বছর বয়সী হরিশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তাঁর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ১১ দিনের মাথায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর পর কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ দান করে হরিশের মা–বাবা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

১৩ বছর কোমায়

২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে একটি ছাত্রাবাসের চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান হরিশ। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর জীবন থমকে যায়। দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। বিছানায় শয্যাশায়ী হরিশের শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ট্রাকোস্টমি টিউব এবং কৃত্রিমভাবে খাবার দেওয়ার জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টমি টিউব ব্যবহার করা হতো। ছেলের সুস্থ হওয়ার আশা একেবারে ক্ষীণ হয়ে আসার পর তাঁর মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর আকুতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর মা–বাবা।

ঐতিহাসিক রায়

১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে হরিশ রানাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ দেন। ভারতে এটিই ছিল প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ অনুমতি। আদালত বলেন, ১৩ বছরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। যখন কোনো রোগীর ফিরে আসার আশা থাকে না, তখন তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা চিকিৎসকের ওপর থাকে না। একই সঙ্গে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ নিয়ে সরকারকে দ্রুত আইন করারও আহ্বান জানান শীর্ষ আদালত।

আরও পড়ুন

আদালতের নির্দেশে হরিশকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আদালতের নির্দেশ মেনে এইমসের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সীমা মিশ্রর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হরিশের কৃত্রিম খাবার ও লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। তবে অরুণার ক্ষেত্রে হাসপাতালের কর্মীদের আপত্তির কারণে সে সময় আবেদনটি নাকচ হয়েছিল। ফলে হরিশ রানাই হলেন ভারতের প্রথম ব্যক্তি, যাঁর ক্ষেত্রে আইনত এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হলো।

আরও পড়ুন