কর্ণাটকে কংগ্রেস নেতা শিবকুমারের সরকারে নতুন সংকট, পদত্যাগ করলেন মন্ত্রী রামালিঙ্গা
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল নির্বিঘ্নে হয়ে গেলেও নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন প্রবীণ মন্ত্রী রামালিঙ্গা রেড্ডি। আজ শুক্রবার সকালে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার যদিও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রামালিঙ্গা রেড্ডি দলের প্রবীণ নেতা। ঘনিষ্ঠ বন্ধুও। তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তিনি মিটিয়ে নেবেন।
কর্ণাটকে তিন বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর গত সপ্তাহে সিদ্দারামাইয়া পদত্যাগ করেন। তাঁর জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী হন উপমুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমার।
কংগ্রেস সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময়েই ঠিক ছিল আড়াই বছর পর সিদ্দারামাইয়া সরে যাবেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন শিবকুমার। কিন্তু ক্ষমতার ওই হস্তান্তর সিদ্দারামাইয়া মেনে নিচ্ছিলেন না। অবশেষে তিন বছর পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কথায় পদ ছাড়তে তিনি রাজি হন।
সিদ্দারামাইয়াকে রাজ্যসভার সদস্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, তিনি রাজ্য রাজনীতিতেই থাকবেন। দিল্লি যাবেন না।
গত বুধবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শিবকুমার। পরের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার ১৩ সদস্যের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয়। রেড্ডিকে দেওয়া হয় পানিসম্পদ দপ্তর।
মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রেড্ডি গণমাধ্যমকে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার নিজে তাঁর বাড়ি এসেছিলেন। বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা না দিয়ে দেওয়া হলো পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। নতুন মন্ত্রণালয় পছন্দের নয় বলে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রিসভার এই সংকট কাটানোর চেষ্টা চলছে। যদিও শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রণালয় বণ্টন নিয়ে মন্ত্রিসভায় আরও অনেকের ক্ষোভ রয়েছে। এই ক্ষোভ নিরসন মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের বড় চ্যালেঞ্জ।
অপসারিত সিদ্দারামাইয়াকে তুষ্ট করতে তাঁর ছেলে যতীন্দ্র সিদ্দারামাইয়াকে মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে। যতীন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে নগরোন্নয়ন মন্ত্রণালয়।