বিজেপির স্পিকারকে ‘অপমানের’ প্রতিশোধ নিতে বাড়িতে ঢুকে রাহুলকে হত্যার হুমকি তরুণের
ভারতের লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে ‘বাড়িতে ঢুকে’ গুলি করে খুন করার হুমকি দিয়েছেন রাজস্থান রাজ্যের এক তরুণ। এ ঘটনায় মরুরাজ্য রাজস্থানের কোটা জেলা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার স্পিকার বিজেপি নেতা ওম বিড়লা এই কোটা আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। রাহুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণের নাম রাজ সিং।
সম্প্রতি এক ভিডিওতে রাজ সিং কংগ্রেস ও লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে খুন করার হুমকি দেন। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কংগ্রেসের অভিযোগের ভিত্তিতে কোটা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।
সংসদের বাজেট অধিবেশনে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় রাহুল নানাভাবে সরকারকে আক্রমণ করেন।
ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবনের লেখা এক বইয়ের কিছু উদ্ধৃতি দিতে গেলে সরকারপক্ষ তার তীব্র বিরোধিতা করে। স্পিকার ওম বিড়লাও রাহুলসহ বিরোধীদের বাধা দেন। প্রধানমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ ছাড়াই স্পিকার ধন্যবাদ জ্ঞাপনের প্রস্তাব পাস করিয়ে দেন।
২০২০ সালে লাদাখে চীন–ভারত সংঘাত নিয়ে জেনারেল নরবনে তাঁর বইয়ে যে স্মৃতিচারণা করেছেন, বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল সেটাই। নরবনের দাবি, চীনের হামলা মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে না নিয়ে তাঁর ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাতে তিনি অসহায় বোধ করেছিলেন।
সাবেক সেনাপ্রধানের এই স্মৃতিচারণা এক ইংরেজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল। রাহুল সেখান থেকেই উদ্ধৃতি দিতে গেলে বাধা পান।
সে ঘটনার পর সংসদ অচল হয়ে যায়। স্পিকারের অফিসে ডাকা মিটিংয়ে ২৫ জন বিরোধী সদস্য স্পিকারকে অসম্মান করেন বলেও সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। রাহুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার দাবি জানিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এক প্রস্তাবও পেশ করা হয়।
সেই বিতর্কের মধ্যেই ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা পড়ে। স্পিকারও জানিয়ে দেন, অনাস্থা প্রস্তাবের মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত তিনি লোকসভার পরিচালকের আসনে বসবেন না।
কোটায় গ্রেপ্তার তরুণ এরই প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে উত্তেজিতভাবে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বাজেট অধিবেশনে স্পিকারকে যে ২৫ বিরোধী সদস্য অসম্মান ও অপমান করেছিলেন, তাঁর বিশ্বাস, রাহুলের নির্দেশেই তা হয়েছে।
গ্রেপ্তার রাজ সিংকে বলতে শোনা যায়, রাহুল ও ওই সংসদ সদস্যরা ওম বিড়লার কাছে ক্ষমা না চাইলে তিনি রাহুলের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গুলি করে মারবেন।
ভিডিওতে ওই তরুণ নিজেকে ‘করণি সেনা’র কোটা জেলার মুখপাত্র বলে দাবি করেছেন। তিনি যেখানে বসে ওই ভিডিও তৈরি করেন, সেখানে তাঁর পেছনের দেয়ালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্পিকার ওম বিড়লার ছবি টাঙানো ছিল। রাজ সিংয়ের গলায় ছিল গেরুয়া উত্তরীয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিজেপি অথবা করণি সেনার পক্ষ থেকে অবশ্য তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার কোটা পুলিশ রাজ সিংকে গ্রেপ্তার করে।
কোটা পুলিশের কর্মকর্তা তেজস্বিনী গৌতম পিটিআইকে বলেন, কোটার কংগ্রেস নেতাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর রাজ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোটার করণি সেনা জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রাজ সিং তাদের মুখপাত্র নন। তাদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্কই নেই। ‘করণি সেনা’ রাজস্থানের উগ্র রাজপুতদের একটি সংগঠন। রাজপুত সম্প্রদায়ের অধিকার, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় তারা লড়াই করে।
স্থানীয় বিজেপি নেতারাও জানিয়েছেন, রাজ সিংয়ের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
বিজেপি ও করণি সেনা দায়িত্ব অস্বীকার করলেও শীর্ষ কংগ্রেস নেতা কে বেণুগোপাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, স্বঘোষিত ‘মোদিভক্তরা’ ঘৃণা ছড়ানোর পাশাপাশি প্রকাশ্যে রাহুল গান্ধীকে খুনের হুমকি দিতে শুরু করেছেন। অথচ শাসক দল নির্বিকার। কারও মুখে রা শব্দটি নেই। জাতীয় স্তরে বিজেপি ঘৃণা ও প্রতিহিংসার যে রাজনীতি করে চলেছে, এসব ঘটনা তারই ফল। সংসদের অভ্যন্তরে ও বাইরে এই জিনিসই চলছে।
এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেছেন, ‘আরএসএস–বিজেপির ইকোসিস্টেম গডসে (নাথুরাম) তৈরির কারখানা।’