অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার আগে কী বলেছিলেন পাইলটরা

অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজের দুর্ঘটনাস্থলে তদন্ত করছেন কর্মকর্তারা। ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, মহারাষ্ট্রের বারামতিছবি: এএনআই

ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে গতকাল বুধবার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। উড়োজাহাজটি অবতরণের চেষ্টাকালে বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ককপিট থেকে পাইলটদের শেষ কথা শোনা গিয়েছিল, ‘ওহ শিট’।

গতকাল সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে লিয়ারজেট ৪৫ উড়োজাহাজ পুনে জেলার বারামতির টেবিল-টপ রানওয়েতে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন: অজিত পাওয়ার (৬৬), তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিদীপ যাদব, প্রধান পাইলট সুমিত কাপুর, সহ-পাইলট শাম্ভবী পাঠক ও বিমানবালা পিংকি মালি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালকের (ডিজিসিএ) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ককপিটে থাকা ক্রুদের শেষ কথা ছিল ‘ওহ শিট’। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) ইতিমধ্যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে—

সকাল ৮টা ১৮ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি (নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এসএসকে) বারামতি বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পাইলট সুমিত কাপুর (১৫ হাজার ঘণ্টা উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা) এবং সহ-পাইলট শাম্ভবীকে আবহাওয়া জানিয়ে নিজ বিবেচনায় অবতরণ করতে বলা হয়।

উড়োজাহাজের পাইলটরা বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে বাতাস ও দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জানানো হয়, দৃশ্যমানতা ছিল ৩ হাজার মিটার, যা অবতরণের জন্য পর্যাপ্ত।

বারামতি বিমানবন্দরের রানওয়ে ১১-এ অবতরণের সময় পাইলট জানান, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে না। তাঁকে ‘গো-অ্যারাউন্ড’ (অবতরণ বাতিল করে আবার ঘুরে আসা) করতে বলা হয়।

পরে দ্বিতীয়বার আসার পর পাইলট জানান, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে। সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে পাইলটদের পক্ষ থেকে এই অনুমতির কোনো ফিরতি উত্তর আসেনি।

এক মিনিট পর সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে ঠিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার থেকে রানওয়ের শুরুতে আগুনের শিখা দেখতে পাওয়া যায়।