কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী, শিশুসহ নিহত ১৮, আহত ৩৭

চোরবাগান মণ্ডপের মর্মান্তিক ঘটনার পর এক কিশোরীকে আগলে রেখে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজন ও এক নিরাপত্তাকর্মী। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ অক্টোবর ২০২৬ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

কলকাতার মানিকতলা এলাকার চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৭ জন। শনিবার সন্ধ্যায় ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে দর্শনার্থীরা হুড়মুড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চাইলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ৩ শিশু ও ২ জন পুরুষ রয়েছেন। অবশ্য আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৭ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে আহত ৩৭ জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ১১ জনকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে ভিড় জমিয়েছেন উদ্বিগ্ন স্বজনেরা। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রথম দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে পরে পুলিশ, দমকল ও কুইক রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এদিকে ঘটনার পরপরই পূজা কমিটির কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনার পর ফাঁকা মণ্ডপ চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে দর্শনার্থীদের ফেলে যাওয়া জুতা-স্যান্ডেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন কলকাতা পুলিশের সদস্যরা। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আহত এক নারীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশে দাঁড়িয়ে তদারক করছেন কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তা। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই দুর্ঘটনায় যারা দায়ী থাকবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় আমার কোনো সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই।’

এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।