সীতার সঙ্গে আকবরকে না রাখতে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের মামলা

সিংহ ও সিংহীফাইল ছবি: রয়টার্স

ভারতের প্রধান হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ধর্মীয় শাখা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (বিএইচপি) পশ্চিমবঙ্গ শাখা গতকাল শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে এমন এক আবেদন করেছে, যা পশ্চিমবঙ্গসহ দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে বিএইচপি এক আবেদনে বলেছে, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে শিলিগুড়ি সাফারি পার্কে একই ঘরে একটি সিংহ ও একটি সিংহী বসবাস করছে। তবে তাদের আপত্তি, সিংহ-সিংহীর এক ঘরে বসবাস নিয়ে নয়, নাম নিয়ে।

সিংহের নাম আকবর। ষোড়শ শতাব্দীতে জালালউদ্দিন মহম্মদ আকবর ছিলেন মোগল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে সফল সম্রাট। আর সিংহীর নাম সীতা, যিনি রামায়ণে হিন্দুদের দেবতা রামচন্দ্রের স্ত্রী। তাদের একই ঘরে রাখার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে বিএইচপি।

বিএইচপির বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন বিভাগ সিংহ দুটির নামকরণ ইচ্ছাকৃতভাবে সীতা ও আকবর দিয়েছে। আকবরের সঙ্গে সীতার বসবাসের ফলে হিন্দুধর্মের অবমাননা হচ্ছে। ধর্মীয় সংগঠনটি নাম পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। রাজ্যের বন কর্তৃপক্ষ এবং সাফারি পার্কের পরিচালককে মামলায় পক্ষ করা হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁরা সিংহ-সিংহীর নামকরণ করেননি। এই জুটিকে ত্রিপুরার সিপাহিজালা জুওলজিক্যাল পার্ক থেকে সম্প্রতি আনা হয়েছে। বিজেপি শাসিত ত্রিপুরাতেই তাদের নামকরণ করা হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সীতা ও আকবর পশ্চিমবঙ্গে এসে পৌঁছেছে।

বিএইচপির আবেদন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। দিল্লিতে যখন বিভিন্ন পার্ক, রাস্তা এবং অঞ্চল থেকে মোগল সম্রাটদের নাম মুছে ফেলা হচ্ছে, তখন পূর্ব ভারতের পূর্ণবয়স্ক সিংহ আর তার নাম বেশি দিন ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে।