শেঠি পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিন বছর আগে তাঁরা বেঙ্গালুরু শহর থেকে টিয়া দুটি কিনেছিলেন। আফ্রিকান গ্রে টিয়া ভারতে পোষা প্রাণী হিসেবে রাখা বেআইনি নয়। তবে পরিবেশবাদীরা প্রায়ই ভারতে বিদেশি পাখির প্রজনন এবং ব্যবসার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি তোলেন।

রুস্তমা ও রিওর মালিক অর্জুন শেঠি বলেন, ‘পাখি দুটিকে আমরা পরিবারের অংশ মনে করি। তাদের খাঁচায় রাখতে হবে, এটা কখনোই বিশ্বাস করিনি। তারা পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে, বিশেষ করে আমার সাত বছর বয়সী ছেলে বিহানের সঙ্গে। তারা আশপাশের শব্দ নকল করতে পারে। দিন পাঁচেক আগে বাসায় কিছু আসবাব ঢোকানোর সময় রুস্তমা বেরিয়ে যায়।’

অর্জুন শেঠি আরও বলেন, রুস্তমা চলে যাওয়ার পর রিও এতটাই বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে যে সে খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দেয়। রুস্তমা হারিয়ে যাওয়ার পর তার খোঁজে ৫০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

তুমাকুরু শহরে শেঠিদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে রুস্তমাকে খুঁজে পায় শ্রীনিবাস ও কৃষ্ণমূর্তি নামে দুই শ্রমিক। বাড়ি ছাড়ার এক দিন পরেই রুস্তমাকে খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁরা। সে সময় পাখিটি একটি গাছের ওপর বসে ছিল। ভয় ও ক্ষুধায় সেটিকে ক্লান্ত ও নিস্তেজ লাগছিল।

রুস্তমা নিজ থেকেই কৃষ্ণমূর্তির কাছে আসে। পরে পাখিটিকে খাঁচায় রেখে খাবার দেন শ্রীনিবাস। চার দিন পর তাঁরা অর্জুন শেঠির বিলি করা প্রচারপত্র দেখে পাখিটি তাঁদের কাছে ফিরিয়ে দেন।

অর্জুন শেঠি বলেন, ‘আমরা একজন পুরোহিতের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলাম। তিনি তখন বলেছিলেন, রুস্তমাকে তিন দিনের মধ্যেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়ালে আরও দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন