উত্তর প্রদেশে কেবল যৌতুকের জন্য ৬ বছরে ৩ বিয়ে, তবু থামেননি তিনি

বিয়েপ্রতীকী ছবি

বিয়ের প্রতারণা নিয়ে বেশির ভাগ ঘটনায় প্রায়ই ‘পালিয়ে যাওয়া কনেদের’ কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু উত্তর প্রদেশের ঝাঁসি জেলায় সামনে এসেছে ভিন্ন এক চিত্র। এখানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি মাত্র ছয় বছরে তিন-তিনটি বিয়ে করেছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে যৌতুক ও গয়না নিয়েছেন। তারপর তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন।

এখন শোনা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তি চতুর্থ বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে তিন স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

এ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তির নাম সুনীল কুমার। তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের ললিতপুর জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা রেলওয়ের গ্যাংম্যান হিসেবে কাজ করেন। তবে সুনীলের নিজের কোনো স্থায়ী চাকরি নেই। বেকার থাকলেও তিনি ঝাঁসি ও ললিতপুরের তিন নারীকে বিয়ে করতে সক্ষম হন। প্রতিটি বিয়ের কথা তিনি পরের জনের কাছে গোপন রাখেন।

সুনীলের প্রতারণার শিকার ওই তিন নারীই একসঙ্গে ঝাঁসির এসএসপি অফিসে হাজির হয়ে তাঁদের অভিযোগ জমা দিয়েছেন। কীভাবে সুনীল তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে যৌতুক নিয়েছেন, প্রতারণা করেছেন, অতিরিক্ত টাকা দাবি করেছেন এবং বিয়ের পর প্রত্যেককে ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত অভিযোগ করেছেন।

২০১৯ সালে প্রথম বিয়ে

প্রথম স্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে হিন্দুরীতি মেনে সুনীলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। গয়না, নগদ ৫ লাখ রুপিসহ তাঁর পরিবার প্রায় ৮ লাখ রুপি খরচ করেছিল।

বিয়ের পরপরই সুনীল আরও যৌতুক দাবি করতে শুরু করেন। দাবি মানা না হলে তিনি স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। পরে ওই নারী বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পান। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

প্রথম স্ত্রী বলেন, ‘আমরা ললিতপুর জেলার বাসিন্দা। আমাদের তিনজনেরই স্বামী একজনই। তিনি আমাদের ঠকিয়ে তিনজনকে বিয়ে করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুরীতিতে আমার বিয়ে হয়। আমরা প্রায় ৮ লাখ রুপি খরচ করেছিলাম। আমি যখন বাবার বাড়ি আসি, তিনি আর কখনো আমাকে নিতে আসেননি। উল্টো তাঁর বাবা এসে আমাকে বলেন, যেন আমি তার ছেলেকে ডিভোর্স দিই।’

২০২১ সালে দ্বিতীয় বিয়ে

দুই বছর পর ২০২১ সালে সুনীলের বাবা পাশের এক গ্রামে তাঁর ছেলের জন্য দ্বিতীয় বিয়ের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় স্ত্রী জানান, তাঁর পরিবারও যৌতুক হিসেবে প্রায় ৮ লাখ রুপি দিয়েছিল। সুনীল যে আগে থেকেই বিবাহিত, তা তিনি জানতেন না।

কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় স্ত্রীকেও আরও যৌতুকের জন্য চাপ দেন সুনীল। এর মধ্যে ছিল সোনার চেইন ও একটি ‘বুলেট’ মোটরসাইকেল। পরিবার রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

দ্বিতীয় স্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামী তিনটি বিয়ে করেছেন। প্রথমটি ২০১৯ সালে, দ্বিতীয়টি আমার সঙ্গে ২০২১ সালে এবং তৃতীয়টি ২০২৩ সালে। আমাদের কাছ থেকেও তিনি যৌতুক নিয়েছেন। আমার বাবা-মা তাঁদের সাধ্যমতো দিয়েছিলেন। তবু তিনি সোনার চেইন আর বুলেট বাইক দাবি করেন।’

দ্বিতীয় স্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা রাজি না হওয়ায় তিনি আমাকে মারধর করে বের করে দেন। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। তাঁরা আমাদের বলেছিলেন, তিনি অবিবাহিত। বিয়ের পর তাঁর বাড়ি গিয়ে আমি জানতে পারি, তাঁর আগে থেকেই এক স্ত্রী আছেন। আমি এই প্রতারণার বিচার চাই।’

২০২৩ সালে তৃতীয় বিয়ে

সুনীল ২০২৩ সালে তৃতীয় বিয়ে করেন। ওই স্ত্রীর পরিবারও প্রায় ৮ লাখ টাকা ও গয়না দেয়। কয়েক মাস পর তিনি যখন অন্তঃসত্ত্বা হন, তখন আবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে—হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে ত্যাগ করা।

তৃতীয় স্ত্রী তাঁর বাবার বাড়ি ফিরে যান এবং পরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। প্রথম দুই স্ত্রীর কথা জানতে পেরে তিনি তাঁদের সঙ্গে এসএসপি অফিসে যান।

তৃতীয় স্ত্রী বলেন, ‘সুনীলের সঙ্গে ২০২৩ সালে হিন্দুরীতিতে আমার বিয়ে হয়। আমার পরিবার ৮ লাখ টাকা খরচ করেছে। এরপর তিনি আরও যৌতুক চান এবং আমাকে মারধর করেন। আমি যখন তিন মাসের গর্ভবতী, তখন তিনি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এখন আমার একটি মেয়ে আছে। পরে জানতে পারি, তাঁর আগে থেকেই দুই স্ত্রী আছেন।’

তৃতীয় স্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ আমি অন্য দুই স্ত্রীর সঙ্গে এসএসপি অফিসে এসেছি। আমরা সবাই মিলে অভিযোগ করেছি। কারণ, তিনি আমাদের ঠকিয়েছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চাই।’

যোগাযোগ করা হলে ঝাঁসির বাবিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেপি পাল জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে।