যেমন ‘ই’ আর এলিফ্যান্ট বলে পরিচিতি পাবে না, সে জায়গায় এসেছে একলব্য। ‘এফ’ বলতে বোঝানো হচ্ছে চার বেদকে (ফোর বেদাস)। ‘জি’ বললে বুঝতে হবে গায়ত্রী মন্ত্র, ‘এইচ’ বললে হনুমান। ঠিক সেভাবে ‘আই’ মানে বুঝতে হবে ভগবান ইন্দ্রের কথা বলা হচ্ছে।

লক্ষ্ণৌয়ের আমিনাবাদ ইন্টার কলেজে ছোটদের এই নতুন বর্ণমালা তৈরি হয়েছে অনেক ভেবেচিন্তে। উদ্দেশ্য ছোটদের মনে দেশের ঐতিহ্য, ধর্মচেতনা, ইতিহাস ও পৌরাণিক চরিত্র সম্পর্কে শ্রদ্ধা সৃষ্টি করা। প্রকৃত দেশপ্রেমিক করে তোলা। ইন্টার কলেজের অধ্যক্ষ সাহেব লাল মিশ্র সংবাদমাধ্যমকে এই প্রচেষ্টা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, শিশু বয়স থেকেই পড়ুয়াদের মনে ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে যাতে স্বচ্ছ ধারণা সৃষ্টি হয়, সেটা দেখাই এই পাঠ্যবই সংস্কারের উদ্দেশ্য। তিনি জানিয়েছেন, ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে এই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। বদলানো হচ্ছে হিন্দি বর্ণমালাও। লক্ষ্ণৌয়ের এই বিদ্যালয় ১২৫ বছর পুরোনো।

শুধু পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক চরিত্রই নয়, বর্ণমালায় তাঁদের অতি সংক্ষিপ্ত পরিচয়ও দেওয়া হয়েছে। যেমন অর্জুনের পরিচয়ে লেখা হয়েছে ‘মহান যোদ্ধা’, বি ফর বলরামের নিচে লেখা ‘শ্রীকৃষ্ণের ভাই’, সি–এর চাণক্য ‘প্রকৃত শিক্ষক’, ডি–এর ধ্রুব এক মহান ভক্ত, যিনি আকাশের উজ্জ্বল তারা। ‘আর’–এ আছেন রামচন্দ্র, ‘টি’তে তুলসী, যাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে আয়ুর্বেদ ঔষধির রানি হিসেবে। ‘ডব্লিউ’–এ এসেছে ওয়াটার বা পানি। ছবিতে পদ্মপাতায় উপবিষ্ট নদীর দেবী গঙ্গা। বর্ণমালার শেষ শব্দ ‘জেড’–এর পাশে গদাধারী জাম্বুবানের ছবি। তাঁর পরিচয় রামভক্ত।